Paradise unfortunate
অভাগীর স্বর্গ
৯ম শ্রেণির ৪র্থ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ ২০২১ শিক্ষাবর্ষের ৯ম – নবম শ্রেণীর চতুর্থ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বই থেকে দুটি নির্ধারিত কাজ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে যথাযথ মূল্যায়ন এর মূল্যায়ন নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের চতুর্থ সপ্তাহের বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সম্পন্ন করবে।
https://i2.wp.com/i.imgur.com/yI8OL5U.jpg?w=708&ssl=1
অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনে যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তা কীভাবে দূর করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? যৌক্তিক মত উপস্থাপন কর।

মানবিক সমাজের প্রতিবন্ধকতা

মানবিকতা বলতে বােঝায় মানুষের মূল্যবােধ। মানুষের বিচার বুদ্ধি যে বুদ্ধি আমরা অর্জন করি , বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের মাধ্যমে। যেমন ধর্মীয় , সামাজিক , রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইত্যাদি। মানবিকতার মূলমন্ত্র হলাে মানুষের কল্যাণ , জাতির কল্যাণ সমাজের কল্যাণ। মােটকথা মানুষের ভলাে , মানুষের জন্য ভালাে কিছু করা , মানুষের উন্নতি সাধন করাই মানবিকতা।
কিন্তু শরচ্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিকতা বলতে আমরা যা বুঝি তার বিন্দুমাত্র মিল খুঁজে পাই নি । তাইতাে মানবিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়েছে “ অভাগীর স্বর্গ ” গল্প । কারণ অভাগীর স্বর্গ গল্পে রয়েছে মানবিক সমাজ গঠনের নানবিধ প্রতিবন্ধকতা।যেমনঃ
শ্রেণি বৈষম্যঃ অভাগীর স্বর্গ গল্পে আমরা দেখতে পাই যে তখনকার সমাজ ব্যবস্থার মাঝে শ্রেণি বৈষম্য ছিল প্রকট।এই শ্রেণি বৈষম্য এর মাঝে ছিল ধনী – গরীব ভেদাভেদ , উঁচু জাত – নিচু জাতের ভেদাভেদ। এই গল্পে আমরা দেখতে পেরেছি সমাজের উচু জাতের লােকদের দ্বারা নিচু জাতের অর্থাৎ গরীব অসহায়দের প্রতি বৈষম্য।
ন্যায়বিচারের ভাব: অভাগীর বেল গাছ লাগানাের ঘটনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে তখনকার সমাজ ব্যবস্থায় কতটা ন্যায়বিচারের অভাব ছিল।
শােষকের শােষণঃ অভাগীর স্বর্গ গল্পের জমিদার এর চরিত্র থেকে একথা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে শাসক। শ্রেণির লােকদের অপরীসীম শােষণ যা একটি মানবিক সমাঝ গঠনের প্রধান অন্তরায় বলে আমি মনে করি।
সামাজিক মর্যাদাঃ একটা মানুষ যখন সমাজে তার নিজ পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে না পারে অর্থাৎ সামাজিক মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে না পারে তখন ই সমাজের মাঝে অমানবিক আচার আচরণ প্রকট হয়ে দেখা যে যা মানবিক সমাজ গঠনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বিবিধঃ সমাজে ধনী – দরিদ্রের মধ্যে যেমন প্রর্থক্য রয়েছে , তেমনি রয়েছে ধর্মে – ধর্মে , সম্প্রদায়ে – সম্প্রদায়ে এবং জাত – পাতের প্রকট পার্থক্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পার্থক্য অশিক্ষা , অজ্ঞতা , কুসংস্কার ও হীন স্বার্থবুদ্ধিপ্রসূত। এতে করে সমাজ প্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। সমাজজীবনে সৃষ্টি হয় নানা দুঃখজনক ঘটনার। এমনকি এত মানবতার বিপর্যয়ও ঘটে থাকে।

প্রতিবন্ধকতা জয় করার উপায়ঃ

১.যথােপযুক্ত শাসনব্যবস্থাঃ একটি সুন্দর মানবিক সমাজ গঠনে আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকরী শাসনব্যবস্থা চালু থাকলে শুধু সমাজ নয় বরং সারা পৃথিবীকে মানবিক করে তােলা সম্ভব।
২. সুষম বিচার ব্যবস্থাঃ যে সমাজে বিচার ব্যবস্থা সুষম অর্থ্যাৎ ন্যয়বিচার রয়েছে সে সমাজ কে আমরা মানবিক বলতে পারি। একটা সমাজে যদি অন্যায় অপরাধের সঠিক বিচার হয় , বিচার ব্যবস্থা যদি পক্ষপাতদুষ্ট না হয় তখন ই কেবল সমাজের বসবাস রত মানুষ যারা রয়েছে তারা নিজেদের কে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভাবতে পারবে আর তাতেই মানবিক সমাজ গঠনের পথটা সুগম হয়ে যাবে।
৩. শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাঃ সমাজে যারা শাসক গােষ্ঠী রয়েছে অর্থাৎ যারা সমাজে নীতি নির্ধারক তারা যদি সমাজের মানুষের উপকারে তাদের শাসন করে তবে সে সমাজ মানবিক হতে বাধ্য। শাসনের নামে যেন শােষণ না হয়। শােষিত মানুষের মাঝে সবসময় ক্ষোভ বিরাজ করে।
৪. আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সমাজে যাতে সবাই নিজের মত করে বাঁচতে পারে , নিজস্ব ধর্মীয় আচার আচরণ পালন করতে পারে , নিজের মতামত স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. সামাজিক মূল্যবােধ চর্চা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে সামাজিক মূল্যবােধ কে জাগিয়ে তুলতে হবে।
৬. শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। আমরা যদি দেখি হিন্দুস্থানি দারােয়ান অশ্রাব্য গালি দিলেও গায়ে হাত দিনা অশৌচের ভয়ে। এতেই প্রতীয়মান হয় যে তৎকালীন হিন্দুসমাজে জাত – পাত ও বর্ণপ্রথা প্রচলিত ছিল। এই ধরণের বৈষম্য অবশ্যই দূর করতে হবে যদি আমরা একটি মানবিক সমাজ গঠন করতে চাই।
I hope you are enjoying this article. Thanks for visiting this website.