Sociology

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত তৃতীয় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৈর্বাচনিক বিষয় সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র তৃতীয় এসাইনমেন্ট হিসেবে পাঠ্য বইয়ের ১ম অধ্যায় বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ এর বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞান চর্চা, প্রয়োজনীয়তা ও বিকাশধারা সংক্রান্ত একটি অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেয়া হয়েছে।

এখানে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের মানবিক বিভাগের সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এবং সমাধান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করা হলো। মানবিক বিভাগ থেকে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের অ্যাসাইনমেন্ট যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকের নিকট জমা দিতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ তৃতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাজ বিজ্ঞান

সকল সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট নেয়া হয়েছে পাঠ্য বইয়ের ১ম অধ্যায় বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ থেকে।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এর আলোকে শিক্ষার্থীরা সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান সমস্যার পটভূমি বর্ণনা করতে পারবে, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারবে, বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের বিকাশ ধারা বর্ণনা করতে পারবে;

নিচের ছবিতে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মানবিক বিভাগের সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র দ্বিতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো

https://i.imgur.com/97B4fWn.jpg

বিষয়ঃ সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, অ্যাসাইনমেন্ট নং-০২, অধ্যায় ও শিরোনামঃ প্রথম অধ্যায় (বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ)

অ্যাসাইনমেন্টঃ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান চর্চা, প্রয়োজনীয়তা ও বিকাশধারা

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

ক. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান সমস্যার পটভূমি লিখতে হবে;

খ. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে হবে;

গ. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ধারা বর্ণনা করতে হবে;

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ তৃতীয় সপ্তাহের সমাজ বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের মানবিক বিভাগের নৈর্বাচনিক বিষয় সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট এ দেওয়া নির্দেশনায় প্রশ্নসমূহ ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন রুবিকস এর আলোকে সমাধান করে দেয়া হলো।

বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান সমস্যার পটভূমি:

সমাজবিজ্ঞান বা সমাজবিদ্যা বা সমাজতত্ত্ব মানুষের সমাজ বা দলের বৈজ্ঞানিক আলোচনা শাস্ত্র। এতে সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনের সামাজিক দিক এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সমাজ বিষয়ক গবেষণা অতীত কাল থেকেই প্রচলিত ছিল। তবে অগাস্ট কোঁৎ সর্বপ্রথম ১৮৩৮ সালে এর রীতিবদ্ধ আলোচনা করেন।

এছাড়া হার্বার্ট স্পেনসার সমাজবিজ্ঞানের মূলনীতিগুলি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের মূল স্থপতি হিসেবে ফরাসি পণ্ডিত এমিল ডুর্খেইম এবং জার্মান সমাজবিজ্ঞানী মাক্স ওয়েভারের নাম উল্লেখযোগ্য। তবে ইবনে খালদুন কে সমাজবিজ্ঞান এর আদি বা প্রাচীন জনক মনে করা হয়।

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অবিভক্ত বাংলায় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী প্রভৃতি গ্রন্থ সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি রচনা করে। গ্রন্থগুলোতে তাঁরা তত্কালীন বাঙালি সমাজের আর্থসামাজিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন।

১৮৩৯ সালে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁতের হাত ধরে জ্ঞানের রাজ্যে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অবিভক্ত বাংলায় প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে সমাজবিজ্ঞানের পাঠ শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিমের সার্বিক প্রচেষ্টায় ও ইউনেসকোর সহযোগিতায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর বিকাশ অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যাপক নাজমুল করিমের হাত ধরেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক অধ্যয়ন শুরু হয়। তারপর অধ্যাপক এফ আর খান, অধ্যাপক আফসার উদ্দিন, রঙ্গলাল সেন, অনুপম সেন, আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে আরও গতিশীল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। ওপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা:

জ্ঞানের একটি পৃথক শাখা হিসেবে আমাদের সমাজে সমাজবিজ্ঞানের পরিচয় খুব বেশী দিনের নয়। সামাজিক বিজ্ঞান সমূহের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান সর্বকনিষ্ঠ। কেননা উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে-এর আবির্ভাব ঘটে । মূলত, মানুষের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে। প্রাথমিক অবস্থায় মানব জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রকতির উপর নির্ভরশীল ছিল। প্রকৃতির অনকল ও প্রতিকল পরিবেশেই মানব চিন্তা বিকশিত হতে থাকে। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞানের একটি পৃথক শাখা হিসেবে আমাদের সমাজে সমাজবিজ্ঞানের পরিচয় খুব বেশী দিনের নয়।

সামাজিক বিজ্ঞান সমূহের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান সর্বকনিষ্ঠ। কেননা উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে-এর আবির্ভাব ঘটে।। মূলত, মানুষের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে। প্রাথমিক অবস্থায় মানব জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল। প্রকৃতির অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশেই মানব চিন্তা বিকশিত হতে থাকে। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে ভাবনা আদিকাল থেকে চলে আসছে।

আদিতে সকল রকম চিন্তা চেতনা দর্শন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল । কিন্তু মানবচিন্তার ক্রমবিকাশের ধারায় দর্শনশাস্ত্রের সীমানা পেরিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নব দিগন্ত উন্মােচিত হতে থাকে। এভাবে মানুষের বিচিত্র জ্ঞানের শাখা হিসেবে জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, মনােবিদ্যা, ভূগােল ও ইতিহাস প্রভৃতির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। তাই জ্ঞান চর্চার ইতিহাস ও তার উৎস খুঁজতে গিয়ে বার বার আমাদের ফিরে তাকাতে হয় সুদূর অতীতের দিকে। প্রাচীন গ্রীক ও রােমান পন্ডিতদের লেখায় সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলােচনা সমৃদ্ধি লাভ করে।

গ্রীক দার্শনিকদের মধ্যে প্লেটো এবং এরিষ্টটল এর নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযােগ্য। মূলত, প্লেটো, এরিষ্টটল ও পিথাগােরাস প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানকে দর্শনশাস্ত্রের আওতাভুক্ত বলে মনে করতেন। দর্শনশাস্ত্রের অঙ্গ হিসেবেই তাঁরা সামাজিক বিজ্ঞানকে পর্যালােচনা করেন। এ প্রসঙ্গে আমরা সর্বপ্রথম প্লেটোর নাম উল্লেখ করতে পারি। আমরা এখন ধারাবাহিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে বিভিন্ন দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানীর মতবাদ আলােচনা করব। প্লেটো তাঁর Republic নামক গ্রন্থে সমাজ সম্পর্কে যে সব তত্ত্বের অবতারণা করেছেন সেসব মূলত যুক্তি নির্ভর হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা বর্জিত। কেননা, তিনি তাঁর গ্রন্থে একটি দ্বাদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন, যেখানে শান্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে। মূলত প্লেটোর Republic নামক গ্রন্থে সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও প্রশ্নের পর্যালােচনা দেখা যায়। প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রকে প্রাচীন কালের সাম্যবাদ বলেও অভিহিত করা হয়।

এরিস্টটল প্লেটোর প্রিয় ছাত্র এরিস্টটল সামাজিক সমস্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রের গড়ন, শ্রেণী-নির্ভর সমাজের দাস-মনিব সম্পর্ক এবং সামাজিক বিপ্লবের কারণ অনুসন্ধানে তাঁর মতবাদ অনেকটা সমাজতাত্ত্বিক ও সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক রূপ পরিগ্রহ করেছে। প্লেটোর চেয়ে এরিস্টটল বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিলেও তিনি মূলত যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তাঁরা কেউই প্রাচীন গ্রীসের সমাজে দাসপ্রথার বিলােপের কথা বলেননি। বরং তাঁদের মতে উক্ত সমাজের অস্তিত্বের জন্য দাসপ্রথা ছিল অপরিহার্য। ইবনে খালদুন তিউনিসিয়ার অধিবাসী মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন (১৩৩২-১৪০৬) সমাজচিন্তার বিকাশের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন। তিনি ঐতিহাসিক দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমায় সমাজের গতি-প্রকৃতি এবং সমাজ জীবনে বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিসমূহের প্রভাব পর্যালােচনা করেছেন।

ইবনে খালদুন সমাজ জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেমন, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, সামাজিক সংহতি সম্পর্কে তিনি বিজ্ঞানসম্মত আলােচনা করেছেন। তিনি বলেছেন সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য Social Solidarity বা সামাজিক সংহতির গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যযুগে জন্মগ্রহণকারী এই মনীষী তাঁর চিন্তা-চেতনা এবং জ্ঞান সাধনার মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে গেছেন। তিনি সামাজিক সংহতিকে ‘আসাবিহা’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেক বস্তুবাদী লেখক খালদুনকে জার্মান সমাজচিন্তাবিদ কার্ল মার্কসের পূর্বসূরি বলে গণ্য করেছেন। ভিকো ইটালীয় মনীষী ভিকো সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছেন। ভিকো তাঁর The New Science নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, সমাজ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বির্বতিত হয়।

বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ধারা বর্ণনা:

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অবিভক্ত বাংলায় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী প্রভৃতি গ্রন্থ সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি রচনা করে। গ্রন্থগুলোতে তাঁরা তৎকালীন বাঙালি সমাজের আর্থসামাজিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেন।

১৮৩৯ সালে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁতের হাত ধরে জ্ঞানের রাজ্যে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অবিভক্ত বাংলায় প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে সমাজবিজ্ঞানের পাঠ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিমের সার্বিক প্রচেষ্টায় ও ইউনেসকোর সহযোগিতায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যয়ন শুরু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কলেজেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর বিকাশ অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যাপক নাজমুল করিমের হাত ধরেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক অধ্যয়ন শুরু হয়। তারপর অধ্যাপক এফ আর খান, অধ্যাপক আফসার উদ্দিন, রঙ্গলাল সেন, অনুপম সেন, আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে আরও গতিশীল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। ওপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

I hope you are enjoying this article. Thanks for visiting this website.