Home জানা-অজানা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড

0
birth certificate check online

বর্তমানে আপনি নিজেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন। তাতে করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সঠিক কিনা বুঝা যাবে।  কিন্তু যাচাই করার নিয়ম কানুন অনেকেই জানেন না। আপনাদের জন্য আমরা একদম সহজ করে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সকল প্রক্রিয়া বর্ণনা করব।

তখন দেখা যাবে সব কিছু একদম সহজ মনে হবে। চলুন তাহলে দেখে নেই ধাপে ধাপে সকল প্রক্রিয়া।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা জটিল কিছু না। চাইলে আপনি নিজে নিজেই সব করতে পারবেন। তবে সেজন্য জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ জানতে হবে।  যদি আপনার বা অন্য কারও জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে চান তাহলে ভিজিট করুন

*সাইটে ভিজিট করলে যে পেজ আসবে সেখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বরের ঘরে জন্ম সনদ নম্বর দিন।

*নিচের ঘরে ক্যালেন্ডার থেকে জন্ম তারিখ সিলেক্ট করে দিন।

*এরপর অনুসন্ধানে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মাঝেই আপনার সামনে জন্ম নিবন্ধনের সকল তথ্য চলে আসবে৷

জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি

আশা করি এতক্ষণে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা শিখে গেছেন। যাচাই করা পেজটি আপনি চাইলে প্রিন্ট করতে পারেন। সেজন্য যাচাই করার পেজে প্রিন্ট করার অপশন পাবেন।  ctr+p চাপলেও প্রিন্ট করার অপশন আসবে। এ ছাড়া স্ক্রিনশট নিয়েও জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

Search birth registration

জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই

কারও জন্ম নিবন্ধন সনদ সঠিক কিনা সেটাও যাচাও করতে পারবেন। আজকাল ভুয়া জন্ম সনদের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তাই জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করে ভেরিফাই করবেন। ভেরিফাই করার জন্য নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন।

*ভিজিট করুন http://everify.bdris.gov.bd/

*এরপর যে পেজ আসবে সেখানে উপরের ঘরে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর টাইপ করুন। সতর্কতার সাথে সঠিক নম্বর দিবেন।

*নিচের ঘরে জন্ম তারিখ দিতে হবে। এখানে প্রথমে হবে জন্ম সাল, এরপর জন্মের মাস, সবশেষে জন্মের দিন। যেমন কারও জন্ম তারিখ যদি হয় ১০ মার্চ ২০০০। তাইলে লিখতে হবে ২০০০০৩-১০।

*এরপর সার্চ বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মাঝেই জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দেখতে পারবেন। জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সাথে জন্ম সনদ মিলিয়ে সকল তথ্য যাচাই করে নিবেন।

জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই

জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে। কেউ ভুয়া জন্ম সনদ ব্যবহার করছে কিনা সহজেই যাচাই করা যায়। জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করা জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার মতই হুবহু একই যা আমরা উপরে দেখিয়েছি।  BDIRS এর ওয়েবসাইট থেকে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে পারবেন।

birth certificate correction

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়া একটু জটিল। সহজে করতে চাইলে ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারে চলে যান। বাকি কাজ তারাই করে দিবে। আর অনলাইনে করতে চাইলে আপনার বাবা মায়ের জন্ম সনদ সংযুক্ত করতে হবে। এরপর https://bdris.gov.bd/br/correction এই সাইটে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে আবেদন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি অনলাইনেই ডাউনলোড করতে পারবেন। সেজন্য ভিজিট করতে হবে  https://bdris.gov.bd/br/search

। তারপর ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর টাইপ করতে হবে। নিচের ঘরের ক্যালেন্ডার থেকে জন্ম তারিখ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর অনুসন্ধানে ক্লিক করলে জন্ম নিবন্ধন সনদের অনলাইন কপি আসবে। আপনি সেটা ডাউনলোড করার অপশন পাবেন।

জন্ম তথ্য সংশোধনের শর্ত ও নিয়মাবলি

জন্ম তথ্য সংশোধন করা কিছুটা কষ্টসাধ্য। যদি জন্মের মাস বা তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকেই করতে পারবেন। কিন্তু জন্ম সাল সংশোধন করতে জন্ম নিবন্ধন অধিদপ্তরে আবেদন করতে হবে। সেজন্য প্রমাণ হিসাবে পাসপোর্ট,  জাতীয় পরিচয়পত্র কপি দাখিল করতে হবে।

বাবা মায়ের নাম সংশোধন করতে হলে বাবা মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ  ম্যাপ করতে হবে।

যদি বাবা মায়ের জন্ম সনদ না থাকে আর আপনার জন্ম ০১/০১/২০০১ সালের পূর্বে হয় তাহলে পিতা মাতা মৃত হলে মৃত্যুর প্রমাণ ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন করতে পারবেন।

আর যদি আপনার জন্ম ০১/০১/২০০১ এর পরে হয় কিন্তু পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকে তাহলে বাবা মায়ের নাম সংশোধন করতে মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

আপনার কাঙখিত জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করতে চাইলে ভিজিট করুন https://bdris.gov.bd/br/search

সেখানে সঠিক দিয়ে যাচাই করুন। সব ঠিক থাকলে অনলাইন কপি দেখতে পাবেন। পাশে ডাউনলোড করার অপশনও পাবেন। সেখান থেকে আপনার সনদ ডাউনলোড করে নিন।

জন্ম নিবন্ধন ফি

সময়ের সাথে সাথে জন্ম নিবন্ধন ফি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। 

*শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মাঝে নিবন্ধন করলে কোন ফি লাগে না।

*৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মাঝে নিবন্ধন করলে ২৫ টাকা ফি লাগবে৷

*৫ বছরের পর নিবন্ধন করলে ফি লাগবে ৫০ টাকা।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন এর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য। জন্ম নিবন্ধন ফি সমুহ নিম্নরুপঃ

বিষয় ফিসের হার
দেশে বিদেশে
জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন পর্যন্ত কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন ফ্রি ফ্রি
জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন পর হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন (সাকুল্যে) ২৫/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
জন্ম বা মৃত্যুর ৫ (পাঁচ) বৎসর পর কোন ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন (সাকুল্যে) ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ১০০/- টাকা ২ মার্কিন ডলার
জন্ম তারিখ ব্যতীত নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ বা তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি সরবরাহ ফ্রি ফ্রি
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহ ৫০/- টাকা ১ মার্কিন ডলার

*রসিদ ছাড়া নির্ধারিত কোন ফিস আদায় করা যাবে না।

প্রশ্ন: বিদেশে জন্ম হলে দেশে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে কি?

উত্তর: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের ধারা-৪ অনুসারে নিবন্ধকের কার্যালয়ের অধীনে জন্ম গ্রহণকারী বা মৃত্যু বরণকারী অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন করা যায়। সুতরাং বিদেশে জন্ম গ্রহণ/মৃত্যু বরণকারী বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হিসেবে বিদেশে জন্ম বা মৃত্যুর যথাযথ প্রমাণ দাখিল করে দেশে স্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধকের নিকট হতে জন্ম/মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারবেন। তদ্রুপ প্রবাসী বাংলাদেশীগণ ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের জন্ম ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন।

প্রশ্ন: নতুন জন্ম নিবন্ধন কি ম্যানুয়াল খাতায় লিখতে হবে?

উত্তর: অবশ্যই না!নতুন জন্ম নিবন্ধন করার জন্য ‘টুল’-এ ‘নতুনজন্ম নিবন্ধন’-বাটনে ক্লিক করলে যে পাতা পাওয়া যাবে তাতে বাংলা বা ইংরেজী বা উভয় ভাবে এন্ট্রি করে সংরক্ষণ করলেই নতুন জন্ম নিবন্ধনের পৃথক একটি করে তালিকাযুক্ত হয়ে যাবে। যে কয়টি ম্যানুয়াল খাতা অনলাইনে তৈরী করা হয়েছে তার পরের নম্বরে একটি বই সৃষ্টি হবে। এই বহির ২০০ পাতা ও প্রতি পাতায় ১২ লাইন, ২৪০০টি ডাটা এন্ট্রি হওয়ার পর সয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী নম্বরের বই তৈরী হবে।

প্রশ্ন: UISC উদ্যোক্তারা কিভাবে নতুন জন্ম নিবন্ধন করবে?

উত্তর: UISC এর উদ্যোক্তরা Data Entry Operator, তারা ম্যানুয়াল খাতা হতে অনলাইনে এন্ট্রি করবেন। নতুন জন্ম নিবন্ধন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বা Authorized Person । Authorized Person ব্যতিত অন্যান্যরা সরাসরি নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে ‘টুল’-এ ‘জন্ম তথ্য প্রদান’ লিংকে প্রবেশ করে আবেনকারীর জন্ম তথ্য Authorized Person বরাবর প্রেরণ করতে হবে। Authorized Person সংরক্ষণ এর মাধ্যমে ঐ জন্ম তথ্য নিবন্ধন করতে পারবে।

প্রশ্ন: একই ব্যক্তি একাধিকবার জন্ম নিবন্ধন করতে পারবে কি?

উত্তর: একই ব্যক্তির অনুকূলে একাধিকবার জন্ম নিবন্ধন করা যাবে না। এটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ২১ ধারা অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ।

প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধন হয়েছে কিনা তা কিভাবে পরীক্ষা করবে?

উত্তর: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করা থাকলে br.lgd.gov.bd ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে জন্ম তথ্য যাচাই অপশনে ব্যক্তির ব্যপন নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করে জন্ম নিবন্ধন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ( যাচাই করতে ক্লিক করুন )।

প্রশ্ন: জন্ম নিবন্ধন সনদের ব্যক্তি পরিচিতি নম্বর (ব্যপন) ১৭ ডিজিটে কিভাবে রুপান্তর করতে হবে?

উত্তর:১৭ ডিজিটের কম ব্যপন নম্বর হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে পুরাতন সনদ জমা প্রদান করে ১৭ ডিজিট ব্যপন নম্বর সম্বলিত সনদ নেয়া যাবে।

প্রশ্ন: ডাটা এন্ট্রি/জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে SAVE না নিলে কী করতে হবে?

উত্তর: একাধারে ১৫ মিনিট এর বেশি সময় BRIS-এ কোন প্রকার কার্যক্রম না করলে সফটওয়্যার অটোমেটিক Log Out হয়ে যায়, এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী কর্তৃক পুনরায় পরিচিতি নাম ও পাসওয়ার্ড প্রদান করে প্রবেশ করতে হবে।

প্রশ্ন: পাসওর্য়াড প্রদান করেও প্রবেশ করা না গেলে কী করতে হবে?

উত্তর: পাসওয়ার্ড প্রদান করার সময় ইংরেজী কী বোর্ড ব্যবহার করতে হবে। যদি বাংলা Unicode Keyboard (যেমন Avro Keyboard) Active থাকে তবে সেটা বন্ধ করে Password প্রদান করে প্রবেশ করতে হবে। অথবা কম্পিউটার Restart করে প্রবেশ করতে হবে।

প্রশ্ন: হাতে লিখা পুরাতন বহি হতে অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করতে কি নতুন জন্ম নিবন্ধন অপশনে প্রবেশ করতে হবে?

উত্তর: হাতে লিখা পুরাতন বহি হতে ডাটা এন্ট্রি করার সময় “নতুন জন্ম নিবন্ধন” অপশনে প্রবেশ করতে হবে না। অনলাইনে তৈরীকৃত সংশ্লিষ্ট পুরাতন বইসমূহে প্রবেশ করে ডাটা এন্ট্রি করতে হবে। কেবলমাত্র নতুন জন্ম নিবন্ধন এর ক্ষেত্রে টুল বক্সে উল্লিখিত “নতুন জন্ম নিবন্ধন” অপশনে প্রবেশ করে এন্ট্রি করতে হবে।

প্রশ্ন: সনদ অপশনে ক্লিক করার পরেও সনদ না এলে কী করতে হবে?

উত্তর: জন্ম ও মৃত্যু সনদ PDF Format-এ Open হয়। সুতরাং Adobe Reader Software কম্পিউটারে না থাকলে Install করতে হবে।

প্রশ্ন: অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলা লেখা না হলে কী করতে হবে?

উত্তর: অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলা লেখার সময় বাংলা Unicode Software (যেমন Avro Keyboard) ব্যবহার করতে হবে।সুতরাং কম্পিউটারে বাংলা ইউনিকোড Software না থাকলে Install করে নিতে হবে।

প্রশ্ন: বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধন-এ স্বামীর নাম লিখা যাবে কি বা তার স্থায়ী ঠিকানা কীভাবে লিখতে হবে?

উত্তর: যে কোন জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার নাম লিখতে হবে। কোন অবস্থাতে স্বামীর নাম লেখার সুযোগ নাই। বিবাহিত মহিলার স্থায়ী ঠিকানা বিবাহের পূর্বে যে ঠিকানা ছিল সেটি লিখতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলা ও ইংরেজী সনদ একসাথে প্রদান করা যাবে কিনা?

উত্তর: বাংলা ও ইংরেজী সনদ একসাথে প্রদান করা যাবে। প্রয়োজনে কাগজের একপিঠে বাংলা ও অপরপিঠে ইংরেজী সনদ প্রদান করা যাবে।

প্রশ্ন: জন্ম বা মৃত্যু তথ্য সংশোধনের নিয়ম কি ?

উত্তর: আইনের ১৫ ধারায় বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসরণপূর্বক নিদিষ্ট ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রার জেনারেল অথবা তার পক্ষে অন্য কোন ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা/কর্মচারী নিকট হইতে কারিগরী সহায়তা গ্রহণ করিয়া জন্ম ও মৃত্যু তথ্য সংশোধন করা যাবে।

প্রশ্ন: একই সনদ ২য় বার ইস্যূ করা হলে নিবন্ধক কোন তারিখে সনদ এ স্বাক্ষর করবে?

উত্তর: জন্ম নিবন্ধন সনদ একাধিক বার ইস্যূ করা হলে সনদ প্রদানের তারিখ ১ম বার জন্ম সনদ ইস্যূ করার তারিখ থাকবে। পরবর্তিতে নিবন্ধক একই সনদ পূনরায় ইস্যূ করলে যে তারিখে সনদ প্রিন্ট করা হয়েছে সেই তারিখে সনদে স্বাক্ষর করবেন।

প্রশ্ন: মৃত্যু নিবন্ধন কিভাবে করতে হবে?

উত্তর: ‘টুল’-এ মৃত্যু লিংকে প্রবেশ করলে প্রাপ্ত জন্ম তথ্য অনুসন্ধান পাতাটির মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্ম তথ্য অনুসন্ধান করে মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির যদি জন্ম নিবন্ধন করা না থাকে তাহলে প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করে নিতে হবে অথবা ম্যানুয়াল খাতায় জন্ম নিবন্ধন থাকলে তা অনলাইনভূক্ত করে নিতে হবে। মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করানো সম্ভব না হলে জন্ম তথ্য অনুসন্ধান পৃষ্টার নিচের অংশে ‘অজ্ঞাত/বিদেশী’ বাটনে ক্লিক করে প্রাপ্ত ফরম পূরণ করে মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে। মৃত্যু নিবন্ধন এর জন্য অনলাইনে সয়ংক্রিয়ভাবে বই তৈরী হয়ে যাবে যা টুলের ‘মৃত্যু নিবন্ধন বই’ লিংকে ক্লিক করে দেখা যায়।

প্রশ্ন: ২০০৬ সালের পূর্বে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে কিনা?

উত্তর: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন,২০০৪ বিগত ৩জুলাই ২০০৬ হতে কার্যকর হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে হবে। অর্থ্যাৎ আইন কার্যকর হওয়ার দিন যারা জীবিত ছিলেন বা তার পরে যারা জন্ম গ্রহণ করেছেন তাদের জন্য এই আইন কার্যকর হবে। ২০০৬ সালের ৩ জুলাইয়ের পূর্বে যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এই আইনের অধীনে তার জন্ম নিবন্ধন করার কোন সুযোগ নেই। কোন মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন না হয়ে থাকলে তার মৃত্যু নিবন্ধনের পূর্বে জন্ম নিবন্ধন করা আবশ্যক। সতরাং বিদ্যমান জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের অধীনে ৩ জুলাই, ২০০৬ এর পূর্বে কোন ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন করা সঙ্গত হবেনা।

প্রশ্ন: অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে Mozilla firefox -এ “Unable to connect” বা Google Chrome-এ “Your connection is Private” ধরনের মেসেজ এ ধরনের কোন সমস্যা দেখা গেলে কি করবেন??

উত্তর: Mozilla firefox এর ক্ষেত্রে আপনি প্রথমে আপনার মডেমটি Disconnect করবেন।তারপর উপরের Tools মেনুতে গিয়ে Options এ যাবেন,এরপর Privacy তে ক্লিক করবেন সেখানে মাঝে বরাবর দেখবেন নীল রংঙ্গের লেখা থাকবে “Clear of Recent History or Remove individual cookies”, তারপর আপনি Remove individual cookies এ ক্লিক করবেন এবং bris.lgd.gov.bd লেখা আছে কিনা দেখবেন যদি থাকে তাহলে bris.lgd.gov.bd ক্লিক করে Remove cookies ক্লিক করবেন ,আর bris.lgd.gov.bd যদি না তাহলে তাহলে All Remove cookies ক্লিক করে Ok দিন । তারপর মডেম কানেক্ট দিয়ে লগইন করুন।
Google Chrome এর ক্ষেত্রে প্রথমে “Back to Safety” লেখার পাশে ছোট করে লেখা “Advanced” এ ক্লিক করবেন, তারপর একটি মেসেজ আসবে যেখান লেখা থাকবে “Proceed to bris.lgd.gov.bd (unsafe)”, উক্ত লিংক এ ক্লিক করলেই আপনি bris এর log in page এ প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রশ্ন: অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সার্ভারের কানেকটিভিটি সংক্রান্ত বা সার্ভারের Error সংক্রান্ত কোন সমস্যা দেখা গেলে কি করবেন?

উত্তর: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সার্ভারের কানেকটিভিটি সংক্রান্ত বা সার্ভারের Error সংক্রান্ত কোন সমস্যা দেখা গেলে এই এড্রেসে ([email protected]) মেইল করুন। ইউজারদের পাসওয়ার্ড বা মেয়াদ সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (UNO, DDLG) যোগাযোগ করুন। তবে ইন্টারনেট স্পিড সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে তার সমাধান আমাদের কাছে নেই।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই নিয়ে আমরা সব কিছুই খোলামেলা আলোচনা করেছি। আশা করি এ থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। কোন কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।