বাংলাদেশ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা এ আন্দোলনে ভয় পেয়েছেন, বিচলিত হয়েছেন তাদের দুর্বলচিত্তের লোক বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

সোমবার (০৬ আগস্ট) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘সড়ক পরিবহন আইন’ অনুমোদন নিয়ে আলোচনার সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা এমন কোনো আন্দোলন ছিল না যে এতো বিচলিত হতে হবে। আন্দোলন করতে গেলে রোদে পুড়তে হয়, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আন্দোলন করতে হয়। ঘাম ঝরাতে হয়। ওই রকম কোনো পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হয়নি। এতেই যারা বিচলিত হয়েছিলো তারা দুর্বল চিত্তের মানুষ। এতো দুর্বল চিত্তের মানুষ হলে চলে না। দুর্বল চিত্তের এই মানুষদের আমার সঙ্গে থাকার দরকার নেই, তারা না থাকাই ভালো।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ আন্দোলনে অনেক বিভ্রান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। অনেকে ফেসবুকের মাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। যাচাই না করেই কেউ কেউ এ ধরনের বিভ্রান্তিতে কান দিয়েছে। আসলে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে এ পরিস্থিতি করা হয়েছিল।এরকম প্রচারের জন্য ফেসবুকে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সড়ক আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর করা হয়েছে। এ সময় অনেকে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর করার পক্ষে মত দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু সবার সঙ্গে আলোচনা করে ৫ বছর সুপারিশ করা হয়েছে, ৫ বছরই থাক। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এ আইনের অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার বিধানও রাখা হয়েছে।

এদিকে সভায় ‘সুজন’ সম্পাদক বদিউল আলম মুজমদারের বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতে মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার বিষয়টিও উঠে আসে। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনও কথা বলেননি।

সূত্র আরও জানায়, সভায় সোমবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী সবাইকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আজ দেশের কোথাও ছাত্ররা রাস্তায় নামেনি। তবে শুনেছি রামপুরায় কিছু শিক্ষার্থী নেমেছে। অন্যত্র পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সভায় সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম জানান, বিআরটিএ-তে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা অধিক। কিন্তু লাইসেন্সের সংখ্যা কম। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানানা, সরকার এক লাখ দক্ষ চালক তৈরি করছে। এডিবির সঙ্গে সরকার একটা চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আওতায় এডিবি এক লাখ দক্ষ গাড়িচালক তৈরি করতে সহায়তা দেবে।

জানা যায়, সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গটি প্রথমে তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে সড়কের কোনো রুটের হাইওয়েতে ওয়েট মেশিন নেই। শুধু আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ওয়েট মেশিন বসানো হয়েছে। অন্য রুটগুলোতে ওয়েট মেশিন নেই কেন?

তখন সড়ক বিভাগের সচিব বলেছেন, সারা দেশে আরও ৪০টি হাইওয়েতে ওয়েট মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

সূত্র আরও জানায়, আলোচনার শেষ দিকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কমেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সড়ক তদারকি করায় এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমেছে।