Economics Assignment

বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থায় কৃষি খাতের উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় উক্তিটির স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন পূর্বক সমস্যা সমাধানে সরকার বা রাষ্ট্রের নীতিসহ ভূমিকা বিশ্লেষণ। এখানে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের মানবিক বিভাগের অর্থনীতি ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এবং সমাধান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করা হলো।

মানবিক বিভাগ থেকে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের অ্যাসাইনমেন্ট যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকের নিকট জমা দিতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ তৃতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট অর্থনীতি

সকল সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট নেয়া হয়েছে পাঠ্য বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় বাংলাদেশের কৃষি থেকে।

নিচের ছবিতে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মানবিক বিভাগের অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র দ্বিতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো

https://i.imgur.com/vQYD6Jc.jpg

বিষয়ঃ অর্থনীতি ২য় পত্র, অ্যাসাইনমেন্ট নং-০২, অধ্যায় ও শিরোনামঃ বাংলাদেশের কৃষি

অ্যাসাইনমেন্টঃ বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থায় কৃষি খাতের উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় উক্তিটির স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন পূর্বক সমস্যা সমাধানে সরকার বা রাষ্ট্রের নীতিসহ ভূমিকা বিশ্লেষণ

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

ক. কৃষি পণ্যের বিপণন ধারণা;

খ. কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা;

গ. কৃষি পণ্যের বিপণন সমস্যা চিহ্নিতকরণ;

ঘ. কৃষি পণ্যের বিপণন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের ভূমিকা;

ঙ. সরকারের কৃষি বিপণন নীতি;

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ তৃতীয় সপ্তাহের অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

প্রিয় ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষা অংশগ্রহণকারী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চলুন এইচএসসি তৃতীয় সপ্তাহের অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেখে নেয়া যাক।

ক. কৃষি পন্যের বিপণন ধারনা

কৃষির উন্নয়ন ও গুনগত উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলাে উন্নত বিপণন ব্যবস্থা। দক্ষ বিপণন ব্যবস্থার উপরই নির্ভর করে উৎপাদনবৃদ্ধির জন্য গৃহীত কর্মসূচীর সফলতা। অর্থাৎ বিপণন চ্যানেল যথাসম্ভব খাটোকরণের মাধ্যমে দক্ষ কৃষি বিপণন ব্যবস্থা তৈরীর জন্য প্রয়ােজন উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামাে। দক্ষ বাজার ব্যবস্থা কৃষককে তাদের পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করে, যা ভােক্তার কাছে বিক্রয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করে।

কৃষি বিপণন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কৃষককে কি উৎপাদন করতে হবে এবং বিক্রয়ের জন্য তা কিভাবে তৈরী করতে হবে, কখন ও কোথায় কিভাবে বিক্রয় করতে হবে, বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষককে কতগুলি কাজ সম্পাদন করতে হবে, বাজার সম্প্রসারণের জন্য তাকে কি কাজ করতে হবে, বিভিন্ন বাজার পদ্ধতির মধ্যে কৃষক কোনটি গ্রহণ করবে ইত্যাদি বিষয়ে উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে কৃষককে সাহায্য করে।

যার ফলে কৃষক মূল্য হ্রাসজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং উৎপাদনে আরও বেশী উৎসাহ বােধ করে। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যত চালিকা শক্তি হিসাবে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খ. কৃষি পন্যের বিপণন ব্যাবস্থা

এ বাজারে কৃষি পণ্যের সংগ্রহ শেষ হয় এবং এ স্থান হতে চূড়ান্ত ব্যবহারীর কাছে পণ্যের যাত্রা আরম্ভ হয়। এখানে বিক্রেতা মহাজন এবং ক্রেতা কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক, বিদেশি আমদানিকারকদের প্রতিনিধি অথবা পরিবেশক। কৃষিপণ্য বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপসমূহ

১. বাহ্যিক অবকাঠামাে সুবিধার আধুনিকীকরণ, উন্নয়ন এবং নতুন অবকাঠামাে তৈরিকরণ।

২ পাথামিক কৃষি পণ্যের মূল্য সংযােজনের লক্ষ্যে দেশে কৃষি ব্যবসা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অর্থ বিনিয়ােগকে উৎসাহিত করার কর্মসূচি গ্রহণ।

৩. কৃষি বাজার গবেষণা এবং উন্নয়ন সুবিধা বৃদ্ধিকরণ।

৪.কৃষি বাজার সংক্রান্ত কার্যাবলিতে প্রাতিষ্ঠনিক ঋণের ব্যবস্থাকরণ এবং বিদ্যমান ঋণ সুবিধাকে আরাে বর্ধিতকরণ।

৫.কৃষি পণ্য বিপণনে নিয়ােজিত ব্যক্তিগণের বাজারজাতকরণের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ।

৬. কৃষি বিপণনের ওপর ভিত্তি করে আধুনিক তথ্য এবং প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাকরণ। যাতে করে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের সব গুরত্বপূর্ণ বাজারের সঠিক ও নির্ভরযােগ্য তথ্য সময়মতাে সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে পারে।

৭. কৃষকদের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার কৃষক সংগঠন যেমন- দলগত বিপণন, চুক্তি বিপণন, উৎপাদক সমবায়, বাজারজাতকরণ সমিতি প্রভৃতি গঠন ও উন্নয়ন এবং সরকারি এবং বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপােষকতায় এগুলােকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।

৮. দায়িত্বে নিয়ােজিত কর্তৃপক্ষকে কৃষি বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত সব অনাকাক্সিক্ষত কার্যকলাপ ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও প্রয়ােগের ব্যবস্থাকরণ।

৯. ভােক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে কার্যকরি ভােক্তা সমবায় প্রতিষ্ঠাকরণ।

১০. সংগ্রহােত্তর ক্ষতি হ্রাসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থাকরণ।

১১. পচনশীল কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন এবং হিমায়িত চেইন পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন।

১২. কৃষিখাতে বিনিয়ােগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শিল্প ট্যারিফ, রাজস্ব।

গ. কৃষি পন্যের বিপণন সমস্যা চিহ্নিতকরণ

বাংলাদেশে কৃষি পণ্য বিপণনে সমস্যাসমূহ যে সব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য উৎপাদকের কাছ থেকে ভােক্তাদের কাছে পৌছায়াকে বিপণন বলে। এ অর্থে কৃষিপণ্যের বিপণন তথা বাজারজাতকরণ হলাে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষি পণ্য উৎপাদন কারীদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ভােক্তাদের কাছে পৌছানাে হয়।

এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কর্মস্তর অতিক্রম করতে হয়। এগুলাে হলাে উৎপাদন শেষে পণ্য সংগ্রহ ও একত্রিকরণ, পণ্যের শ্রেণিবিভাগ ও নমুনাকরণ, প্যাকিং, গুদামজাতকরণ, মালিকানা বদল,পরিবহন অর্থসংস্থান,ঝুঁকিবহন, বিজ্ঞাপন প্রদান, বাজার সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ, বন্টন, বিক্রয় ইত্যাদি।

এগুলাে সুষ্টভাবে সম্পাদিত হলে কৃষকরা পন্যের উপযুক্ত দাম পায় এবং ভােক্তা সাধারণও তা যথার্থ দামে ক্রয় করতে পারে। বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশে কৃষিপন্যের বিক্রয় ব্যবস্থায় নিম্নে উল্লেখিত সমস্যা গুলাে দেখা যায়:

১. বাজারের অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ কৃষক বাজার সম্বন্ধে বিশেষ কোন খােজ-খবর রাখে না। বিভিন্ন কৃষি পণ্যের মূল্যের ভবিষ্যৎ গতি সম্বন্ধেও তারা ওয়াকিবহাল নয়। সুতরাং তাদের অজ্ঞতার জন্য মধ্যবর্তি ব্যবসায়ীগন অতিসহজেই কৃষকদেরকে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

২. দামের তীব্র উঠানামা: কৃষি পণ্যের দামের তীব্র উঠানামা ঘটে। ফসলের মৌসুমে দাম একেবারেই কম থাকে এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পর দাম আবার বেশ বেড়ে যায়। কিন্তু যখন দাম বাড়ে তখন কৃষকের ঘরে আর কোন বিক্রয়যােগ্য উদ্বৃত্ত থাকে । সুতরাং দামের এরূপ তীব্র উঠানামার ফলে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

৩. গুদামের অভাবঃ অধিকাংশ উন্নয়শীলদেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি পণ্য সংরক্ষনের জন্য প্রয়ােজনীয় গুদামের একান্ত অভাব রয়েছে। ফলে কৃষক সম্প্রদায় অধিক দাম পাওয়ার আশায় কৃষি পণ্য গুদামজাত করে রাখতে পারে না। তারা ফসলের মৌসুমে ফসল কম দামে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হয়।

৪. শ্রেণীবিভাগ ও নমুনাকরণের অভাবঃ স্বল্পোন্নত দেশসমুহে কৃষিপণ্য শ্রেণিবিভাগ ও নমুনাকরণের সুবন্দোবস্ত নেই। পণ্যের গুনাগুনের উপর এর দাম নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত দেশে পণ্যের গুণানুসারে তাদের শ্রেনিবিভাগ করা হয়না ফলে এখানে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট পণ্য একই দামে বিক্রয় হয়। ফলে কৃষকরাও উৎকৃষ্ট পণ্যের জন্য ভালাে দাম পায় না।

৫. কৃষকের দারিদ্রঃ ঢারিদ্র্যের জন্য কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য অধিক দাম পাওয়ার আশায় বেশি দিন ধরে রাখতে পারে না। ফলে ফসল উঠার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক তার ফসল নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। আড়তদারগণ নামমাত্র মূল্যে এসব দ্রব্য খরিদ করে এবং পরে উচ্চ মূল্যে তা বিক্রয় করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে

৬. পরিবহন ব্যবস্থার অভাবঃ বাংলাদেশের মতাে আরাে অনেক দেশে পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে কৃষক কৃষি পণ্য দূরবর্তী বাজারে নিয়ে যেতে পারে না। ফলে নিকটবর্তি হাটবাজারে তারা কম দামে পণ্য বিক্রয় করতে বাধ্য হয়।

৭. দালালের প্রভাব : সাধারণত কৃষক তাদের পণ্য সরাসরি প্রকৃত ক্রেতাদের নিকট বিক্রয় করতে পারে না। প্রকৃত ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একদল দালালশ্রেনীর লোেক থাকে। মুনাফার প্রায় সবটুকু এ সমস্ত দালালদের হাতে চলে যায়।

৮. অশিক্ষা: বাংলাদেশের মতাে উন্নয়নশীল দেশ সমূহের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত ফলে তারা ফটকা কারবারের জটিলতা ও বৈদেশিক বাজারের গতি-প্রকৃতির সঙ্গে একেবারেই অপরিচিত।

৯. সংগঠিত বাজারের অভাব: বাংলাদেশের মতাে উন্নয়নশীল দেশের গ্রামাঞ্চলের হাট বাজার সুনিয়ন্ত্রিত বা সুসংগঠিত নয়। নিয়ন্ত্রনের অভাবে বাজারে কৃষকদের নিকট থেকে বিভিন্ন হারে খাজনা আদায় করা হয়। বাজারের চাঁদা, আড়তদারি প্রভূত খা,

১০. পণ্যের মানঃ বিিভন্ন স্থানে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মান একরূপ নয়। ফলে কৃষ পণ্যের মান নিধারণের বিষয়টি কৃষিবাজারে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে।

১১. সরকারি নীতির অভাবঃ অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে কৃষি পণ্যের বাজার সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য সরকারের কোনরূপ সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে কৃষক কৃষি বাজারে রীতিমত অরাজকঅবস্থা বিরাজ করে।

১২. প্রতিযােগীতার অভাবঃ বাংলাদেশের মতাে উন্নয়নশীল দেশে সুষ্ঠুযাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে বাজার গুলাে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে বিভিন্ন বাজারের মধ্যে প্রতিযােগীতার অভাব দেখা যায় এবং এক বাজারের সঙ্গে অন্য বাজারের দামের কোনরূপ সামঞ্জস্য থাকে না।

ঘ. কৃষি পন্যের বিপণন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের ভূমিকাঃ

কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা: বাংলাদেশে কৃষি পণ্যের বিক্রয় ব্যবস্থা উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলাে গ্রহন করা যেতে পারে:

১. বাজার নিয়ন্ত্রনঃ বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের নিকট থেকেই যাতে আড়তদারি,পাপ্পাদারি,বিভিন্ন চাঁদা প্রভৃতি হতে অর্থ আদায় করতে না পারে সে জন্য আমাদের গ্রামঞ্চলে বাজারগুলােকে সুষ্টভাবে নিয়ন্ত্রন করা দরকার। ২. যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি: দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের মাধ্যমে গ্রাম শহরে কৃষি পণ্যের বহন খরচ হ্রাস করা দরকার। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে গ্রামগুলােকে রেল স্টেশন ও স্টিমারের সাথে যুক্ত করতে হবে। দেশসমতে কমিপনা শ্রেণিবিভাগ ও

৩. শ্রেণীবিভাগ ও নমুনাকরণঃ স্বল্পোন্নত দেশসমূহে কৃষিপণ্য শ্রেণিবিভাগ ও নমুনাকরণের সুবিধা আছে। পণ্যের গুনাগুনের উপর এর দাম নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত দেশে পণ্যের গুণানসারে তাদের শ্রেনিবিভাগ করা হয়। ফলে এখানে উৎকষ্ট পণ্য ভালাে দামে এবং নিকৃষ্ট পণ্য কম দামে বিক্রয় করতে পারবে। ফলে কৃষকও উৎকৃষ্ট পণ্যের জন্য ভালাে দাম পাবে।

৪. গুদাম নির্মাণ ও কৃদ্ধি পণ্য সংরক্ষণঃ গুদামজাতকরনের ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা যাতে ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কম দামে তা বিক্রয় করে ফেলতে বাধ্য না হয় তার

৫. দালাল ও ফড়িয়ার বিলােপ সাধনঃ কৃষি পণ্যের বাজার থেকে দালাল ও মধ্যবর্তী ফড়িয়াদের বিলােপ সাধন করতে হবে। দালাল, ব্যাপারি, আড়তদার প্রমুখ মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীগন কৃষকদের প্রাপ্য মূল্যে ভাগ বসিয়ে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করে তােলে।

৬. কৃষি ঋণঃ আর্থিক অনটনের ফলে আমাদের কৃষকের অধিক দাম পাওয়ার আশায় তাদের পণ্য সামগ্রী মজুত করে রাখতে পারে না। সুতরাং আর্থিক অনটনের জন্য কৃষক যাতে ফসলের মৌসুমেই পণ্য বিক্রয় করে দিতে বাধ্য না হয় সে জন্য উপযুক্ত কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৭. সর্বনিম্ন মূল্য ধার্যকরণঃ সরকার কর্তৃক কৃষিপণ্যের যে সর্বনিম্ন মূল্য ধার্য করা হয়;

৭. সর্বনিম্ন মূল্য ধার্যকরণ: সরকার কর্তৃক কৃষিপণ্যের যে সর্বনিম্ন মূল্য ধার্য করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেউ নির্দিষ্ট মূল্যের কম দামে ক্রয় করলে তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. ক্ৰয়ঃ ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের নিকট থেকে ফসল ক্রয় করার উদ্দেশে সরকারকে ক্ৰয় এজেন্সি গঠন করতে হবে। এ ধরনের ক্রয় এজেন্সির মাধ্যমে সরকার সমিতি গঠনের মাধ্যমে বাজারে কৃষকদের অবস্থান শক্তিশালী করা দরকার ।

৯. আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্তি সাধনঃ আমাদের কৃষি পণ্যের বিদেশে রপ্তানির সুযােগ সৃষ্টি করা প্রয়ােজন। কিন্তু অনেক সময় দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ করে যাওয়ার আশংকায় খাদ্যশস্য রপ্তানি করা হয় না। এতে দেশে খাদ্য শস্যের মূল্য কমে থাকে এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অতএব দেশের কৃষিপণ্যের বাজারে উন্নতি সাধনে জন্য দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে সংযুক্তি সাধন দরকার।

ঙ. সরকারের কৃষি বিপণন নীতিঃ

জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণের উদ্দেশ্যে কৃষক, উৎপাদক, কৃষি ব্যবসায়ী ও ভাে সহায়ক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আই প্ৰজাপিত বাজার

(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তারিখ হইতে, কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য যে কোনাে বাজারকে প্রজ্ঞাপিত বাজার হিসাবে ঘােষণা করিতে পারিবে।

(২) কোনাে ব্যক্তি লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিত প্রজ্ঞাপিত বাজারে বাজারকারবারি হিসাবে কার্য পরিচালনা করিতে পারিবেন না।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন লাইসেন্সের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি, ফরম ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর, মহাপরিচালক বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, কোনাে নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপিত বাজারে বাজারকারবারি হিসাবে কার্য পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর, মহাপরিচালক বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, যাচাই-বাছাইক্রমে সন্তুষ্ট হইলে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, গুদাম বা হিমাগার পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবেন। ১ রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ইত্যাদি কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণ

(১) কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণের রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ডিলার, মিলার, সরবরাহকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী এবং চুক্তিবদ্ধ চাষ ব্যবস্থার সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে কার্য পরিচালনার জন্য লাইসেন্স গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন লাইসেন্সের জন্য বিধি দ্বারা সর্ধারিত পদ্ধতি, ফরম ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।

I hope you are enjoying this article. Thanks for visiting this website.