হাতাহাতি হট্টগোল বাকবিতণ্ডায় ফের পণ্ড ঢাবি নীল দলের সভা

9
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য,

নজিরবিহীন হাতাহাতি, হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডায় আবারও পণ্ড হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থিত শিক্ষকদের নীল দলের সাধারণ সভা।

এতে আহত হয়েছেন দুই শিক্ষক। সভায় এক শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্যে অন্য শিক্ষকের তীর্যক মন্তব্য নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কোনো ধরনের আলোচনা বা সদ্ধিান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হতবাক খোদ নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, Èআমি স্তম্ভিত। এ ধরনের ঘটনা আমি জীবনেও দেখিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

এর আগে ৭ মে সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে নীল দলের প্যানেল চূড়ান্ত করতে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ডাকা সভায়ও দফায় দফায় হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

তবে সেবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সভায় এ ধরনের হাতাহাতির ঘটনা তারা এর আগে আর দেখেননি।

নীল দল সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে নীল দলের আহ্বায়ক কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন অনুষদের ২৪ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নীল দলের দু’জন যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো সদ্ধিান্ত নিতে না পারায় পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সদ্ধিান্ত হয়। সদ্ধিান্ত অনুযায়ী যথারীতি বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসেন তারা।

সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক যুগান্তরকে জানান, সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় তাদের মধ্য থেকে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সময়ে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করেন।

কিছুক্ষণ পর বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. একেএম জামাল উদ্দিন সাবেক ভিসিকে নিয়ে এ ধরনের সমালোচনার প্রতিবাদ করেন।

ওই শিক্ষকরা আরও জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বক্তৃতার পরে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী।

তিনি বক্তৃতায় সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সমালোচনা করেন এবং তার আমলের সব কার্যক্রমের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান। বক্তৃতায় অধ্যাপক রব্বানী তাকে (জামাল উদ্দিন) উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন।

এর পরের ঘটনা নিয়ে শিক্ষকদের দুটি অংশের মধ্য থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন তার দিকে তেড়ে আসেন এবং আঘাত করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন জানান, তিনি প্রক্টরকে আঘাত করেননি। বরং প্রক্টরই তাকে আঘাত করেছেন।

এতে তিনি দঁাড়ানো থেকে পড়ে যান। এ সময় এক শিক্ষক পা দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। ঘটনার বিচার না হলে আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন আচরণের সাক্ষী হয় টিএসসির অভ্যন্তরে থাকা অসংখ্য শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী। ক্যাফেটেরিয়ার কাচের গ্লাস দিয়ে তারা শিক্ষকদের হাতাহাতি ও নজিরবিহীন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখেন।

অনেকে ব্যক্তিগত মুঠোফোনে এসব দৃশ্য ধারণ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের একটি অংশ এসে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ক্যাফেটেরিয়ার আশপাশ থেকে সরে যেতে বলেন।

কেউ যাতে ঘটনাস্থলে না আসতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে টিএসসিতে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে ক্যাফেটেরিয়ার পাশে দঁাড় করিয়ে রাখা হয়।