শুধু এমসিকিউ-মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৩৯তম স্পেশাল বিসিএস

15
বিসিএস

চিকিৎসক স্বল্পতা দূর করতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৩৯তম এই বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৪ হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন ও ২৫০ সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেয়া হবে। অংশগ্রহণকারীদের শুধু ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এজন্য বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪ সংশোধন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক যুগান্তর বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারিকে (এমসিকিউ) লিখিত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রার্থীকে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। অন্যান্য বিসিএস পরীক্ষার মতো বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে না। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জনের ৪৫৪২টি এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ২৫০টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন প্রদানের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা গ্রহণের জন্য পিএসসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি কমিশনের সভায় উপস্থাপন করা হলে রাষ্ট্রীয় বিশেষ প্রয়োজনে দ্রুত নিয়োগ দিতে বিশেষ পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন সদস্যরা। এজন্য প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত ও ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় মেডিকেল সায়েন্স/ডেন্টাল সায়েন্স-১০০, বাংলা-২০, ইংরেজি-২০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি-২০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি-২০, মানসিক দক্ষতা-১০ ও গাণিতিক যুক্তি-১০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। ২ ঘণ্টা সময়ের এই লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য দশমিক ৫ নম্বর কাটা হবে। ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০। বিশেষ বিসিএস হলেও অন্যান্য বিসিএসের মতোই বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সবই বহাল থাকবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এর আগেও ১৪তম, ১৬তম ও ২৬তম বিশেষ বিসিএস নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের এসব বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রতিবার এ সংক্রান্ত বিধিমালা এককালীন সংশোধন করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত বিশেষ বিসিএসেও বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। এরপরই ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পিএসসির সচিবকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক পত্রে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য বিভাগে বিদ্যমান চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জনের ৪৫৪২টি এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ২৫০টি পদ পূরণের নিমিত্তে একটি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’
জানা গেছে, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ জুন প্রশাসনিক অনুমোদন দেন। তৃণমূলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সঠিকভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি সচিবালয়ে এক সভায় ‘দ্রুততম সময়ের’ মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রথমে তিন হাজার এবং পরে পর্যায়ক্রমে আরও সাত হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট নিরসন করা হবে।’ এ সময় তিনি জানান, তিন বছর আগে ছয় হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে উপজেলায় পদায়ন করায় গ্রামে চিকিৎসক সংকট অনেক কমেছে।