মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ভর্তির প্রয়োজনীয় তথ্য

23
মেডিকেল ভর্তি তথ্য

বাংলাদেশে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা যথেষ্ঠ প্রতিযোগিতামূলক । সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৮৯টি। এর মধ্যে ৩০টি সরকারি, ৫৪টি বেসরকারি। আর ছয়টি মেডিকেল কলেজ আর্মি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যেটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে। তবে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি: মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ২০০। এর মধ্যে এসএসসি (৪০ নম্বর) ও এইচএসসির (৬০) প্রাপ্ত জিপিএর ভিত্তিতে বরাদ্দ থাকে একশ নম্বর। আর বাকি একশ’র উপর মূলত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১০০টি নৈর্ব্যক্তিক বা এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে জীববিজ্ঞানে ৩০টি. রসায়নে ২৫টি, পদার্থবিজ্ঞানে ২০টি, ইংরেজিতে ১৫টি, সাধারণ জ্ঞানে ১০টি প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ সময় ১ ঘণ্টা। এমসিকিউ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হয়েছে। তবে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই থেকে নতুন একটি পরীক্ষা পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিতে এমবিবিএস ও ডেন্টালের জন্য আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় এমবিবিএস’এ পরীক্ষা পদ্ধতি আগের মতো রাখা হলেও ডেন্টালের জন্য নতুন একটা পরীক্ষা পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। ডেন্টালের জন্য নতুন সম্ভাব্য নম্বর বণ্টন হতে পারে জীববিজ্ঞানে মোট প্রশ্ন থাকবে ৩০টি, নম্বর ৩০; পদার্থবিজ্ঞানে ৩০টির জন্য নম্বর ৩০, রসায়নে ৩০টির জন্য ৩০ এবং ইংরেজিতে ১০টি প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ নম্বর ১০। অর্থাৎ ডেন্টালের জন্য নতুন পদ্ধতিতেও ১০০টি প্রশ্নের জন্য ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক ভর্তি পরীক্ষা হবে। তবে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে ভর্তি নির্দেশিকায় বিস্তারিত তথ্য থাকতে পারে।

পরীক্ষার সিলেবাস: ২০১৩-১৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুনভাবে প্রণীত পাঠ্যসূচি অনুসরণে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা : এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রাপ্ত মোট জিপিএ ন্যূনতম ৮ থাকতে হবে। তবে এসএসসি বা এইচএসসির কোনোটিতেই জিপিএ ৩.৫০ এর কম থাকা যাবে না। মাধ্যমিকে জীববিজ্ঞান বিষয়টি না থাকলেও সমস্যা নেই। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে জীববিজ্ঞান বিষয়টি আবশ্যিক বা ঐচ্ছিক কোনো একটি হিসেবে থাকতেই হবে।

শর্তাবলি: সরকারি/বেসরকারি মেডিকেল/ ডেন্টাল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর কাটা যাবে। অবশ্য যেসব শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে কিন্তু কোনো মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী নয় তাদের বেলায় কোনো নম্বর কাটা যাবে না।

সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের মোট আসন সংখ্যা: দেশের সব সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৩৮০৮টি। এর মধ্যে এমবিবিএস-৩২৭৬টি, বিডিএস-৫৩২টি। মোট আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-নাতনি, উপজাতি/পশ্চাত্পদ জনপদ কোটা এবং জেলা কোটার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ রয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক যেসব বই পড়তে হবে: ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য পেতে হলে কী বই পড়ছ, কার লেখা বই পড়ছ সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাবধানতার সঙ্গে প্রতিটি বিষয়ের সঠিক বইগুলো পড়ার চেষ্টা করবে। প্রাণিবিজ্ঞানের জন্য নূর-ই পারভীন ও আলিম স্যারের বই, উদ্ভিদবিজ্ঞানের জন্য আজিবুর স্যারের লেখা বই, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রের জন্য তফাজ্জল স্যারের বই, রসায়ন প্রথমপত্রের জন্য সঞ্জিত স্যারের বই, রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের জন্য কবির স্যারের বই এবং পদার্থ ও রসায়নের গাণিতিক সমস্যা ও সাজেশনের জন্য ‘মেডিকেল ম্যাথ অ্যান্ড সাজেশন’ বইটি ভালো করে পড়বে।

ফলাফল ও বিস্তারিত তথ্য: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পেতে ভিজিট করতে পার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইট www.dghs.gov.bd. আর ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেলে মোবাইলে ফলাফল পেতে মোবাইলের এসএমএস অপশনে গিয়ে টাইপ কর MISDGHS <space> college code <space> reg.no এবং পাঠিয়ে দাও ৯৯৩৪ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানা যাবে।

পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে করণীয়: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তাই পরীক্ষার আর বেশি দিন বাকি নেই। তোমরা ইতিমধ্যে নিশ্চয় জোরেশোরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছ। যে কয়দিন রয়েছে সেদিনগুলোর যথাযথ ও সঠিক ব্যবহার করতে হবে। এখন প্রতিটি বিষয়ই সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। তবে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেবে। এ বিষয়গুলোর ছক, পার্থক্য, উদাহরণ, কাজ, বৈশিষ্ট্য, বোল্ড লাইনগুলোর উপর জোর দাও। সমাধান কর বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একাধিক লেখকের বই পড়লেও নিম্নে উল্লিখিত বইগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। সম্ভব হলে অন্য একটি বইয়ের অতিরিক্ত তথ্য যে লেখকের বইটি বেশি করে পড়ছ তাতে যোগ করে নাও। এবার বিশেষ করে গাণিতিক সমস্যার ওপর বেশি জোর দিতে হবে কারণ গত পরীক্ষায় অনেকগুলো গাণিতিক সমস্যা ছিল। এছাড়া ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করতে চাইলে বিসিএসের বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে পার। সেইসঙ্গে দৈনিক পত্রিকা ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন ম্যাগাজিন বা সাময়িকী পড়বে। চেষ্টা করবে প্রায় সব প্রশ্নের একটিমাত্র উত্তর দেবে।

পরীক্ষায় ভালো করতে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবে :

বর্তমান সময়টাকে কাজে লাগাও: অতীত কখনো ফিরে আসবে না। তাই অতীতের কথা ভেবে সময় নষ্ট করা শুধুই বোকামি। যতক্ষণ ভাবা ততক্ষণই নষ্ট। তাই বর্তমানই সব। বর্তমানকে কাজে লাগাতে পারলেই সাফল্য পাবে কারণ বর্তমানই একদিন অতীত হবে। আর ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা জানি না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে সময় নষ্ট না করে বর্তমানকে কাজে লাগাতে পারলেই ভবিষ্যতে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বদা হাসিখুশি থাক: হাসিখুশি থাকা মানুষের মনের ওপর উপকারী প্রভাব বিস্তার করে। জীবনে চলার পথে সংকটময় মুহূর্ত আসতে পারে। এতে বিচলিত না হয়ে তোমাদের আশাবাদী হতে হবে। হতাশা আশাবাদী মানুষের অগ্রগতির পথে বাধা হতে পারে না।

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ কর: জীবনের নানা বাঁকে নানা ঘটনা ঘটবে। কিন্তু কোনোভাবেই হীনমন্যতায় ভোগা যাবে না। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে যা আছে তাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে এবং জয়ী হওয়ার বাসনা থাকতে হবে।

‘মিসাইলম্যান’ খ্যাত ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের একটি উক্তি হলো— ‘যে জিনিসটা পাওয়ার চিন্তা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না তা-ই হলো স্বপ্ন’। তাই স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যাও। তাহলেই সফলতা পাবে। একটা কথা মনে রাখবে, ভর্তি পরীক্ষায় তোমাদের সফল হতেই হবে। তাই সাধ্যমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাও।