বৃত্তি পাচ্ছেন মেধাবী ৫২৫ শিক্ষার্থী

20
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য,

চলতি বছর ৫২৫ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিতে চলেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ১১ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৃত্তি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থী আগামী চার বছর প্রতি মাসে পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ১০০ বছর পূর্তি ও সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে

আয়োজিত এক মতবিনিমিয় সভায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে সংগঠনের সভাপতি এ. কে. আজাদ গতকাল সোমবার বিকেলে এ কথা জানান। এ সময় তিনি অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটির নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৬০ শতাংশই আসেন নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে। তাদের মধ্যে আট থেকে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অর্থনৈতিক কারণে থাকে চরম ঝুঁকিতে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ রকম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতবছর ২০১৬ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ৭০৪ শিক্ষার্থীকে চার বছরের জন্য মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে এ বৃত্তি দেওয়া হয়।

এ. কে. আজাদ বলেন, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কী কাজ করছে, তা জানাতেই এ মতবিনিময়। আমাদের সবার পরিচয় আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্বের অনেক বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসংস্থান করে থাকেন অ্যালামনাইরা। এ অ্যাসোসিয়েশনের যতটুকু পরিচিতি দরকার, ততটা হয়তো নেই। সংগঠনকে সবার দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। সবার কাছে টাকা-পয়সা চাই, এমন নয়- বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়েও সবাই সহায়তা করতে পারেন। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল সমস্যা আবাসন। গতবছর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে একটি ছাত্র শীতের সময়ে বারান্দায় বসবাসের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে গেলে তার ট্যাক্সিচালক বাবা সে অর্থ নিয়ে তা বিশ্ববিদ্যালয়কেই দিয়ে দেন, যেন আবাসন সংকটে তা কাজে লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হলের উন্নয়নে অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগ নিয়েছিল। বর্তমান সরকার তা সম্পন্ন করবে। টিএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নেও অ্যাসোসিয়েশন কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বলেন, ৯১টি বিভাগে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদেরও বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এবার ৮১টি বিভাগ অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের বৃত্তি প্রদানের স্লোগান হচ্ছে, ‘শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের জন্য বৃত্তি।’ এবার যারা বৃত্তি পাচ্ছে, তাদের শপথ করিয়েছি, যারা যখন চাকরিতে যাবেন তারা অন্তত ঢাবির একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেবেন।

মতবিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ, গবেষণা, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

মতবিনিময় সভায় অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, সহসভাপতি মুনিরা খান, যুগ্ম মহাসচিব আমিনুর রহমান, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক মাহমুদা খাতুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফুজা রহমান চৌধুরী, প্রচার সাব-কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রচার কমিটির সদস্য নাদিরা কিরণ ও শরীফ উদ্দিন লিমন। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তৃতা করেন খায়রুল আনোয়ার মুকুল, রাহুল রাহা, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, প্রণব সাহা, সাব্বির নেওয়াজ ও জয়দেব দাশ।