পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো যাবে না

6
শিক্ষা সংবাদ

অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে প্রতি বছরই ভর্তির সময় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চ শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারছেনা। তবে এখন থেকে অপরিকল্পিতভাবে আসন বৃদ্ধির সে সুযোগ আর থাকছে না। নতুন করে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনাও দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসিতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা আর বাড়ানো যাবে না’ মর্মে নির্দেশনা দিয়েছেন। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে প্রয়োজনে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউজিসিকে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৭টি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে অনার্সে আসন ছিল ৭ হাজার ১০৮টি। তবে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ২০টি আসন বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আসন সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৬৩৬টি। এ বছর আসন সংখ্যা বাড়বে ৭০টি। গত বছর খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) তিনটি অনুষদভুক্ত ১৮টি বিভাগ ও তিনটি ইনস্টিটিউটে স্নাতক পর্যায়ে আসন ছিল ১ হাজার ৫টি। চলতি বছর আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৫টি করা হয়েছে। একইভাবে অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নতুন বিভাগ খোলা ও পুরনো বিভাগে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও প্রতি বছরই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন। আর চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৭ হাজার ৯০ জন।