পদত্যাগই করছেন শিক্ষামন্ত্রী

9
শিক্ষা সংবাদ

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। এর আগেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুবার দেখা করে পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত ব্যক্ত করেছিলেন। দুবারই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ না করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘কেন্দ্র থেকেই প্রশ্নপত্র গুলো ফাঁস হচ্ছে। এটা একটা বিরাট চক্র। পুলিশ আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে।আমি একা কি করবো?‘ নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ আমি সরে গেলেই যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়, তাহলে সবার আগে এই কাজটাই করবো।‘

জানা গেছে, অব্যাহত সমালোচনার মুখে অতিষ্ঠ শিক্ষামন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের পরামর্শেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর দুই মেয়ে চান না, এতো সমালোচনা মাথায় নিয়ে তাদের বাবা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখুক।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবার এস.এস.সি পরীক্ষায় মহামারী আঁকার ধারণ করেছে। প্রতিটি বিষয়েই প্রশ্নপত্র ঘোষণা দিয়ে ফাঁস হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবী দলের মধ্যেই তীব্র হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসে লণ্ডভণ্ড শিক্ষাব্যবস্থা

টানা নবম দিনের মতো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল চলতি এসএসসি পরীক্ষায়। প্রশ্নফাঁসের মধ্য দিয়ে ১ ফেব্রæয়ারি শুরু হয় এবারের এসএসসি পরীক্ষা। প্রথম দিন বাংলার প্রশ্ন ফাঁসের পর থেকে প্রতিদিন পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস হয়েছে।
গতকাল নবম দিন ছিল রসায়ন পরীক্ষা। গতকালও প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রতিটি প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল পাওয়া গেছে পরীক্ষা নেয়া প্রশ্নের সাথে। টানা প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যে এর আগে ঘটেনি তা নয়। ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষাসহ অনেক পাবলিক পরীক্ষায় একইভাবে প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নফাঁস হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সমাপনী পরীক্ষাসহ সব পরীক্ষায় যেভাবে বিরামহীন প্রশ্নফাঁস হয়েছে তাতে প্রশ্নফাঁস নিয়ে এখন হইচই আগের চেয়ে কমে গেছে। পরীক্ষা মানেই প্রশ্নফাঁস এটাই যেন এখন নিয়ম হয়ে গেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে।

কিন্তু তারপরও শিক্ষায় এ নৈরাজ্য মানতে পারছেন না মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। পরীক্ষা এলেই তাই তারা হতাশায় ভেঙে পড়েন। কারণ সারা বছর কঠোর অধ্যয়ন করে পরীক্ষার প্রস্ততি নেয়ার পর যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তবে তাদের দুঃখ রাখার জায়গা থাকে না। অনেক শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারছে না কান্না। বিপরীতে সারা বছর তেমন পড়াশোনা না করে, কাসে হাজির না হয়েও ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে উদ্বাহু নৃত্য করতে করতে বের হচ্ছে পরীক্ষার হল থেকে। এ দৃশ্য মেধাবীদের জন্য ভীষণ পীড়াদায়ক।

অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশেরও ভাষা খুুঁজে পাচ্ছেন না। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, ক্রমাগত প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মুষড়ে পড়েছেন তাদের মেধাবী ও পড়–য়া সন্তানেরা। তাদের সন্তানরা তাদের চারপাশের প্রায় সব শিক্ষার্থীর মুখে মুখে শুনছে আর জানতে পারছে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। পরিচিত কোনো কোনো সহপাঠীই তাদের সন্তানদেরও ফাঁস হওয়া প্রশ্ন অফার করছে বলেও জানিয়েছেন কোনো কোনো অভিভাবক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, শুধু কি প্রশ্নফাঁসে জর্জরিত আমাদের সন্তানরা? টাকার বিনিময়ে এখন সমাপনী পরীক্ষার ফল পরিবর্তন এমনকি বৃত্তি পাইয়ে দেয়ার দুর্নীতির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এখন যাব কোথায়? সন্তানদের কী বলে পড়তে বসতে বলব? তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বললে প্রশ্ন করে পড়াশোনা করে কী হবে। পরীক্ষার আগে তো প্রশ্নফাঁস হয়ে যাবে। আমরা সারা বছর পড়েও তাদের সাথে পারব না প্রতিযোগিতায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে অনেকে শুধু ভালো ফলই করবে না, বৃত্তিও বাগিয়ে নেবে কেউ কেউ। কোমলমতি সন্তানদের এমন অভিযোগের কোনো জবাব নেই অভিভাবকদের কাছে। এ ঘটনা একবার দুইবার নয়। প্রতিবার প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার চিত্র এটি।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার নৈরাজ্যের পাশাপাশি আরেকটি চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তা হলো মানুষের নৈতিক অধঃপতনের চিত্র। কারণ সমাপনীসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সময় দেখা গেছে অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্য ফাঁস হওয়া প্রশ্ন জোগাড়ে ছুটছেন। এ ছাড়া প্রশ্নফাঁসে জড়িত অনেক শিক্ষক গ্রেফতার হয়েছেন। এবার গ্রেফতার হয়েছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ বিপুল শিক্ষার্থী। রয়েছেন শিক্ষকও।

প্রায় এক দশকে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বের হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈরাজ্যকর চিত্র আর লণ্ডভণ্ড অবস্থা। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল শিক্ষার মানের চরম ধস। শিক্ষার মানের এ অধঃপতনের চিত্র বের হয়ে পড়ে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও বারবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে। ২০১১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি ইচ্ছুকদের হতাশজনক ফলাফল হতে থাকে। তবে শিক্ষার প্রকৃত চিত্র একেবারে জাতির সামনে উলঙ্গ হয়ে পড়ে ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী চান্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া ওই বছর ‘খ’ ইউনিটে ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর ধরে গণহারে জিপিএ ৫ বিস্ফোরণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এ হতাশজনক চিত্রে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে গোটা জাতি।

শিক্ষাব্যবস্থা বারবার ঝাঁকুনির শিকার হয়েছে একের পর এক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায়। প্রশ্নফাঁস শুধু পাবলিক পরীক্ষায় নয়, বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায়ও অব্যাহতভাবে প্রশ্নফাঁস হতে থাকে। জাতির জন্য এক দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি।

শিক্ষার মানের অধোগতি এবং প্রশ্নফাঁস ছাড়াও গত কয়েক বছরে বারবার শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে সৃজনশীলসহ নানা ধরনের শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের কারণে। তা ছাড়া অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠেছে ঘনঘন পাবলিক পরীক্ষা চালুর ফলে। আগে যেখানে এইচএসসি পাস করতে দুইটি পাবলিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতো সেখানে এখন চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যেসব পরিবারে একাধিক সন্তান লেখাপড়া করছে সেসব অভিভাবকের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই সন্তানদের পরীক্ষাকেন্দ্রিক ব্যস্ততা সামলাতে। শহরের অনেক নারী অভিভাবক জানিয়েছেন, ঘনঘন পরীক্ষা আর সন্তানদের পড়াশোনাকেন্দ্রিক ব্যস্ততার কারণে তাদের আর সংসার জীবন, ধর্মকর্ম বলতে কিছু নেই। অনেকে আর কুলাতে পারছেন না। অনেকে কাতর সুরে বলেছেন, পঞ্চম ও অষ্টমে পাবলিক পরীক্ষা তুলে দিলে আমরা বাঁচতাম।

শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। নতুন পদ্ধতি বের করতে হবে। একটি উপায় অবশ্যই বের করা যাবে। আগামী বছর থেকে নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হবে। এমসিকিউ পদ্ধতি ভালো হলেও সেটা অনেক ঝামেলা করছে এবং প্রশ্নফাঁসে সহায়ক বলে জানান তিনি। আবার নতুন করে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর কথা শুনে আতঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
এ দিকে একের পর এক প্রশ্নফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা বাতিল চেয়ে গতকাল আদালতে রিট আবেদন করেছেন চার আইনজীবী। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন দুইজনেই পরীক্ষার আগে বলেছিলেন প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পেলেই পরীক্ষা বাতিল করা হবে। তবে এখন এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রশ্নফাঁস তদন্ত ও যাচাই বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির ওপর।

ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা বাতিল করা একটি বিরাট বিষয়। বাতিল করে আবার পরীক্ষা নেয়া হলে তখনো যে প্রশ্নফাঁস হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? তাদের কথায় এটা পরিষ্কার যে, পরীক্ষা বাতিল করার ইচ্ছা তাদের নেই।

গত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিবারই তা অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনেককে গ্রেফতার এবং তদন্তে ফাঁসের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও অস্বীকার করা হয়েছে। অবশেষে স¤প্রতি শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেছেন।
এ দিকে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় বারবার বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। কারণ প্রতিটি পরিবর্তন আর নতুন ব্যবস্থার খেসারত দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে সৃজনশীল ব্যবস্থা এখনো ভীতি আর আতঙ্ক হিসেবে বিরাজমান। এ ব্যবস্থা চালুর পেছনে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার দৌরাত্ম্য থেকে অব্যাহতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সৃজনশীল ব্যবস্থা কোচিং, প্রাইভেট ও নোট গাইড নির্ভরতা আরো বাড়িয়েছে। বহুগুণে বেড়েছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের হয়রানি ও ভোগান্তি। সব মিলিয়ে সন্তানের লেখাপড়া মানে এখন অভিভাবকদের জন্য বিরাট এক বোঝা আর দুশ্চিন্তার নাম।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় গতকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়, গণিত, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পদার্থ, রসায়ন প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তবে এবার আলোচিত বিষয় ছিল অগ্রিম ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা। অগ্রিম ঘোষণা দেয়া সত্তে¡ও তা রোধ করা যায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গ্রহণ করা সব কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের খেসারত যেমন দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের তেমনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের খেসারতও দিতে হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীসহ অনেককে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষার্থীদের আধা ঘণ্টা আগে হলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপকতা : এবার এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কি ভয়াবহ আকারে শিক্ষার্থীদের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার ব্যাপকতা বোঝা যায় চট্টগ্রামের ঘটনায়।

গত ১৩ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার ছিল পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষা। চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের পটিয়া শাখার এসএসসি পরীার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা-নেয়ার জন্য একটি বাস ভাড়া করে স্কুল কর্তৃপ। পরীার্থীদের তত্ত্বাবধানের জন্য বাসে প্রতিদিন থাকতেন একজন শিক্ষক। গত মঙ্গলবার ৫৬ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আইডিয়াল স্কুলের পরীক্ষার্থীরা তাদের জন্য ভাড়া করা বাসে চড়ে রওনা দেয় পরীা কেন্দ্রে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম প্রশাসন পথিমধ্যে বাসে অভিযান চালিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রসহ ৫৬ শিার্থী ও একজন শিককে আটক করে। তবে কঠোর নজরদারিতে রেখে তাদের পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়। পরীা শেষে যাচাই-বাছাই করে ৩২ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। ২৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ নয়জনের মোবাইল ফোনে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।

আটক এক পরীার্থী জানায়, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পরীা শুরুর এক ঘণ্টা আগে সে প্রশ্নপত্র পায়। পরে ওই প্রশ্নপত্র সে তার আরো সাত সহপাঠীকে দেয়। তারা সবাই মিলে প্রশ্নের উত্তর বের করছিল।

আটক ওই পরীক্ষার্থী আরো জানায়, এসএসসি, এইচএসসি ইউনিভার্সিটি অল এক্সাম আউট কোয়েশ্চন অ্যান্ড রেজাল্ট চেঞ্জ ইনফরমেশন বিডি’ নামে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের কাছে সে প্রশ্ন চায়। পরে ওই পেজের অ্যাডমিন তাকে জানায়, ‘আমরা সব বোর্ডের প্রশ্ন দিয়ে থাকি। ১০০ ভাগ কমন আসবে। তা ছাড়া আমরা সব বোর্ডের রেজাল্ট চেঞ্জ করে থাকি। এরপর মাত্র ৬০০ টাকা বিকাশ করায় পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে তাকে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় বলে জানায় সে।

২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সাল ছিল পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের হিড়িকের বছর। ২০১৪ সালে বছরজুড়ে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সমাপনী, এএসএসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ে মুড়ি মড়–কির মতো মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র। এ ছাড়া ওই বছর জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।

২০১৪ সালে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া অনেক প্রশ্নের সাথে পরীক্ষার হলের প্রশ্নের হুবহু মিলে যায়। তারপরও একটি পরীক্ষা স্থগিত ছাড়া অন্য সব পরীক্ষা চালিয়ে নেয়া হয়। ২০১৪ সালে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল এইচএসসির। পরিস্থিতি বেগতিক আকার ধারণ করায় স্থগিত করা হয় ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা। যদিও বাংলা, ইংরেজি প্রথমপত্র, গণিত, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞানসহ বেশির ভাগ বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি।

২০১২ সালের সমাপনী পরীক্ষায় বাংলা ও গণিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায়ও একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকে। ২০১৪ সালে সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় ধুমধামের সাথে।

২০১৩ সালে সমাপনী পরীক্ষায় ইংরেজি এবং বাংলা বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়। তবু এ পরীক্ষা বাতিল হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আশরাফুল ইসলাম তখন জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তবে পরীা বাতিল করা হচ্ছে না। শিশুদের পানিশমেন্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

২০১৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীায়ও সব প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। গণিত, ইংরেজি প্রথমপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফাঁস হওয়া করা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীায় ইংরেজি, গণিত, পদার্থ, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।