নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থাকা-খাওয়া ফ্রি!

16
ভর্তি তথ্য

নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম থেকে শুরু করে অফিস কক্ষ সবখানেই সারি সারি বিছানা। শুধু সেখানেই নয়, মেয়র-চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের বাসভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, সরকারি রেস্ট হাউজ, পৌরসভা ভবন, রেড ক্রিসেন্ট ভবন, বিআরডিবি ভবন, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ বিভিন্ন স্থানেই বিছানার সারি। আর এই ব্যবস্থা করা হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থাকার জন্য।

থাকার জায়গার পাশাপাশি শহরে আগত এসব অতিথির জন্য বিনামূল্যে খাবার ও যাতায়াতেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের মাঝে বিনামূল্যে খাবার পানি ও কলম বিতরণ করা হচ্ছে।

নোয়াখালী উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার নেওয়া ব্যতিক্রমী আয়োজনের সাহায্যে স্বত:স্ফুর্ত ভাবে এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা। নোয়াখালীতেই প্রথম ব্যতিক্রম ধর্মী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বেজায় খুশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

জানা গেছে, নোবিপ্রবিতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ৩ দিনব্যাপী ভর্তি পরিক্ষা শুক্রবার শুরু হয়েছে। পরীক্ষা চলবে রোববার পর্যন্ত। ৩০টি বিষয়ে ১৩২০টি আসনের বিপরীতে এবার ৭০ হাজার ২৯৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। সে হিসেবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে নোয়াখালী শহরে।

স্থানীয়রা জানান, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাইজদী শহর থেকে পরিক্ষাকেন্দ্রে বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য ৩০টি যাত্রীবাহী বাসের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ৩০ হাজার বোতল মিনারেল ওয়াটার ও কলম দিয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৩০টি ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে ৩০টি তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করে শিক্ষার্থীদের তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করা হচ্ছে। পৌর মেয়র শহিদউল্যাহ খান সোহেল পৌরসভার উদ্যোগে ভর্তিচ্ছু ৫ হাজার নারী শির্ক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থাকা- খাওয়ার ব্যাবস্থা করেছেন। মেয়রের পক্ষে প্যানেল মেয়র রতন কৃষ্ণপালের তত্বাবধানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে।

রতন কৃষ্ণপাল জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা শহরে আসতে থাকেন। মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে মেয়রের নির্দেশে পৌর ভবনের প্রথম তলা থেকে ৪র্থ তলা ভবনে ও মেয়রের হাউজিং এলাকার বহুতল বাসভবনে তাদের থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন তার নিজস্ব বাসভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, সরকারি রেস্ট হাইজ, এফপিএনবিসহ বিভিন্ন স্থানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।

শিক্ষার্থী তাশপিয়া ইসলাম, নিপা, অভিভাবক ইসমাইল সরকার, লিয়াকত আলি জানান, নোয়াখলীবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়ার এত সুন্দর ব্যবস্থা করায় সবাই বেজায় খুশি। তারা বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়েছি, কিন্তু শুধুমাত্র নোয়াখালীতেই এমন সহযোগীতা পেয়েছি। শহরবাসীর এমন আন্তরিকতায় আমরা কৃতজ্ঞ। এমন আয়োজন যেন দেশের প্রত্যেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয়।

তারা আরও বলেন, নোয়াখালীর মানুষ কতটা অতিথি পরায়ণ তা এ আয়োজন থেকেই প্রমাণিত হয়।

নোয়াখালী-৪ চার আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, পৌর মেয়র শহিদউল্যাহ খান সোহেল ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরিক্ষা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নোয়াখালীতে এসেছেন। তারা আমাদের অতিথী। এ বিপুল সংখ্যক মানুষ কোনো ভাবেই আবাসিক হোটেল ও সরকারি গেস্ট হাইজে রাখা সম্ভব নয়। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের জন্য নোয়াখালী পৌরসভা ভবন, মেয়রের বাসভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, রেড ক্রিসেন্ট ভবন, বিআরডিবি ভবন, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের মাঝে পানি ও খাবার সরবারহ করা হয়েছে। আগামীতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য আরো ব্যপক আকারে থাকা খাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।