নিরাপত্তাহীনতায় বাকৃবি’র শিক্ষার্থীরা

14
চাকরির খবর

পদে পদে ভোগান্তি-নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর অঙ্গহানী, কয়েকজন শিক্ষকের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাসহ ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। বাড়ছে অসামাজিক কার্যকলাপ। কোথাও কোন নিরাপত্তা নেই। আর ক্যাম্পাসে ব্যাটারী চালিত অটো সাথে দূর্ঘটনায় কেউ আহত হলে মূল সড়ক দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় অটো চলাচল।

এদিকে রিক্সা চালকরাও সুযোগ নিয়ে বাড়িয়ে দেয় ভাড়া। ফলে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাাধ্যমেও চলছে নানা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা শিক্ষার সুষ্ঠুু পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সরকারী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এরকম অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের পারাপারে রাস্তা আছে যেখানে গণপরিবহনের চলাচল সম্পূর্নরূপে নিয়ন্ত্রিত এবং অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতর দিয়ে যে রাস্তাই বহমান হোক না কেন তা যদি শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয় তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চুরি, ছিনতাই বা সড়ক দূর্ঘটনাসহ সার্বিক অনিরাপত্তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনভাবেই এড়াতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউ আহত হলে গতি নিয়ন্ত্রণ না করে ব্যাটারি চালিত অটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গত প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তীণ ছাত্রী হলের সামনের রাস্তা দিয়ে অটো চলাচল বন্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে রাবি, জাবি, চবিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে রিক্সা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও বাকৃবিতে তা নেই। ফলে সুযোগ নিচ্ছে চালকরা। আর এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। আগে অটোতে ১০ টাকায় যেখানে যাওয়া যেত এখন রিক্সায় যেতে ৩০-৪০ টাকা গুণতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে কিছু বহিরাগত যুবক প্রায়ই ছাত্রী হলের সামনের রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া ভাবে মটরসাইকেল চালানোয় অনেক দূর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রতক্ষ্যদর্শী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ। তারা ছাত্রীদের নানাভাবে উত্তক্ত করছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না প্রশাসন। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, আবাসিক হল ও হোটেলোগুলোতে নি¤œমানের খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ক্যাম্পাস জুড়ে মশা ও সাপের আধিক্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিম্মমানের বা নামমাত্র সেবা, কোথাও কোথাও বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত জব্বারের মোড় সংলগ্ন ভাঙ্গা রাস্তাঘাট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখার অবস্থা আরও নাজুক। পানি সরবরাহের ট্যাংকিগুলোতে দীর্ঘদিনের জমানো ময়লা, ট্যাংকি উপছিয়ে অনবরত পানির অপচয়। নিত্যদিনের ব্যবহৃত পানিতে ময়লা, শেওলা ও বালি। এমনকি ছাত্রীদের আবাসিক হলের পানির ট্যাপ থেকে কেঁচোও বের হয় মাঝে মঝে। বৃষ্টিতে আবাসিক হলের কক্ষ পানিতে একাকার। এছাড়া আবাসিক এলাকায় যে বাজারটি রয়েছে তার অবস্থাও নাজুক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রোক্টর প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত ভাবে অটো চলাচল করবে। রাস্তায় গতিরোধক বসাানো হয়েছে। আর বহিরাগতদের অনেককেই ধরে পুশিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অনেক দর্শনার্থী আসায় নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও বেশকিছু সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। প্রশাসন নিরাপত্তা রক্ষায় সেেচষ্ট রয়েছে। আশাকরি সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।