জেএসসি-জেডিসি: কমেছে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান, ৫৯ স্কুলে পাসের হার শূন্য

11
শিক্ষা সংবাদ

এবারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। তেমনি কমেছে জিপিএ-৫ ও পাসের হারও।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমনটা দেখা গেছে। দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এর পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
পরে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ৫ হাজার ২৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪৫০টি।

এ বছর শতভাগ পাস করা স্কুল ও মাদ্রাসার সংখ্যা কমেছে ৪ হাজার ১৭১টি। এর মধ্যে ৫৯টি স্কুল ও মাদ্রাসায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি।

গত বছরের চেয়ে এবার শূন্য পাসের স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে। এবছর ৩১টি স্কুলে কেউ পাস করেনি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৮টি।

এদের মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে শূন্য পাসের স্কুল রয়েছে ৩৪টি। এটিও গত বছরের চাইতে বেশি। গত বছর ৮টি সাধারণ বোর্ডে শূন্য পাসের স্কুলের সংখ্যা ছিল ৮টি।

এবার ২৫টি মাদ্রাসায় একজনও পাস করেনি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২০টি। এখানেও শূন্য পাসের মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে।

ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৫৫৯টি মাধ্যমিক স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবছর ছিল ৬ হাজার ২৪৭টি।

এ বছর ১ হাজার ৭২০টি মাদ্রাসার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার শতভাগ পাসের মাদ্রাসার সংখ্যা কমেছে। গেল বার ৩ হাজার ২০৩ টি মাদ্রাসার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবছর শতভাগ পাস মাদ্রাসার সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪৮৩টি।

এবার জেএসসি ও জেডিসিতে গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এবার পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে। গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ছিল ৯৩.০৬ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ৯.৪১ শতাংশ।

পরীক্ষার ফল www.educationboardresults.gov.bd ছাড়াও শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়াও জেএসসি ও জেডিসির ফল জানতে যেকোনো মোবাইল থেকে JSC/JDC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।

গত ১ নভেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়া ওই পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডে ২৮ হাজার ৮২৪টি স্কুলের ২ হাজার ৮৩৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ২৭১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন।