জবিতে ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকলেও বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

14
শিক্ষা সংবাদ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এখনও সৃষ্টি করা হয়নি ‘ওয়াই-ফাই জোন’। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওয়াই-ফাই (ইন্টারনেট) সুবিধা থাকলেও তা শুধু বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজেই সীমাবদ্ধ। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াই-ফাই জোন না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লাইব্রেরি চালু করা হলেও ইন্টারনেট ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীরা সেটির সুবিধাও পাচ্ছেন না।

ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে ২০১২ সালে পুরো ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু পাঁচ বছরেও শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াই-ফাই জোনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে সর্বমোট ১৬৫ এমবিপিএস ফ্রিকোয়েন্সির শতাধিক রাউটার রয়েছে। যেগুলোর ৩০টি আইটি দপ্তর প্রত্যক্ষ পরিচালনা করে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষকরা পরিচালনা করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, এসব রাউটারের প্রায় ৮০টিতে পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখেছে বিভিন্ন বিভাগ ও আইটি দপ্তর। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সুবিধা থাকার পরও শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠনের সরবরাহকৃত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সির কারণে তাও ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা। এদিকে ২০১৫ সালে ই-লাইব্রেরির সুবিধা চালু করা হলেও তাও চলছে নামমাত্র। ই-লাইব্রেরিতে শিক্ষকদের জন্য সাতটি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ২৩টি কম্পিউটার থাকলেও এগুলোর বেশিরভাগ সময় নষ্ট থাকে। এসব দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট আইটি এক্সপার্টও নেই। এসব কম্পিউটারে দেওয়া ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল ফ্রিকোয়েন্সির কারণেও সেগুলো শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারছেন না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ই-লাইব্রেরির আলাদা অপশন থাকলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে নেটওয়ার্কিং ও আইটি দপ্তরের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য বলেন, সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসে ওয়াই-ফাই সুবিধার জন্য কিছুদিনের মধ্যে সরকারি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি শেষ হলে ইন্টারনেটে সমস্যা থাকবে না। এ সময় তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এস্টাবলিশম্যান্ট অব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্প্রসারিত নতুন ভবনের দশ তলার দুটি রুম পাওয়া গেছে। এখানে এ প্রকল্পের কাজটি শুরু করা হবে।