খুলনায় ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা

6
jsc ফলাফল 2018

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে খুলনায়ও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ফলাফলের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের উল্লাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। মেয়েদের ভালো ফলাফলে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইতে দেখা গেছে।

এ বছর খুলনায় জেএসসিতে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে খুলনায় ২ হাজার ৬২৫ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৮৮ জন। পাসের হারেও ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে আছে মেয়েরা।

যশোর শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ৪২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় ৩০ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭৭৭ জন ছেলে এবং ১৫ হাজার ৪২১ জন মেয়ে। এদের মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭৪ জন। যার মধ্যে ১৩ হাজার ৪৪৮ জন মেয়ে এবং ১২ হাজার ৫২৬ জন ছেলে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, চলতি বছর খুলনার ১ হাজার ৮৩০টি প্রাথমিক ও সমমানের বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৭৯০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৪ হাজার ৫৯০ জন। তবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিলো। ফলাফলেও পিছিয়ে গেছে খুলনা জেলা।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে খুলনায় ৩৮ হাজার ৩৯ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছিলো ৩৭ হাজার ৬০০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৫ হাজার ১৪৮ জন। ২০১৫ সালে খুলনায় ৩৮ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশ নিয়েছিলো। এর মধ্যে পাস করেছিলো ৩৮ হাজার ১৭৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৫ হাজার ৫৮২ জন।

সূত্রটি জানায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
মেয়েদের ভালো ফলাফল প্রসঙ্গে অভিভাবকরা বলেন, পরিবারে ছেলের পাশাপাশি মেয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। এ কারণে মেয়েদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনের প্রভাবে তারা ভালো ফলাফল করছে।

খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ থেকে পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া সাদিকা জামানের বাবা মো. ওহিদুজ্জামান ওহিদ বাংলানিউজকে বলেন, সময়ের সঙ্গে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারে ছেলের পাশাপাশি মেয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। অফিস-আদালত, করপোরেট হাউস থেকে শুরু করে মেয়েদের কাজের অবস্থানের যেমন উন্নতি হচ্ছে সেই সঙ্গে মেয়েরাও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে ভালো ফলাফল করছে।