একাদশ শ্রেণির ভর্তি বাতিল ও টিসি নেয়ার সময় বাড়লো

22
শিক্ষা সংবাদ

একাদশ শ্রেণির ভর্তি বাতিল ও টিসি নেয়ার দ্বিতীয় ধাপে সময় দেয়া হয়েছে। ফলে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে ৬ মার্চ থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

বুধবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বোর্ডের অধীনে ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি হওয়া একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় ধাপে সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী ৬ মার্চ থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিভাগ, শিফ্ট, ভার্সন, ভর্তি বাতিল, কলেজ পরিবর্তন ও ছবি পরিবর্তন করতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা থেকে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে অনলাইনে টিসি, ভর্তি বাতিলসহ একাদশ শ্রেণির বিভিন্ন সংশোধনীর সময় দেয়া হয়। এ কার্যক্রম শেষ করতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় শেষ হয়। বর্তমানে নতুন করে আবারও ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, নতুন করে আবারও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিসি, ভর্তি বাতিলসহ সংশোধনীর জন্য সময় দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সুপারিশের ভিত্তিতে সময় বাড়ানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের জন্য বিগত সময়ে দেড় মাস সময় দেয়া হলেও অনেকে তা করতে পারেনি। অনেকে বিভিন্ন সমস্যার বিষয় উল্লেখ করে আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় ধাপে সময় বাড়ানো হয়েছে।

……………………………………………………………

চলতি বছর এসএসসি পাস করেও সারাদেশে এখনও প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তারা প্রতিদিন শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ জানাতে ছুটে আসছেন। তবে ভর্তি বঞ্চিতদের জন্য সুখবর হলো যোগ্য স্থানে তাদের ভর্তিতে আবারও ১০ জুলাই নতুন করে আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার (৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী ৩টি ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখনও যারা ভর্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে, তাদের আগামী ১০ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত নতুন করে আবেদন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এখনও যারা আবেদন করেও ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি বা আবেদন করেনি, তারা এ ধাপে আবেদন করতে পারবে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এ ধাপে সকল শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এখনও পর্যাপ্ত আসন রয়েছে, তাই ভর্তি থেকে কেউ বঞ্চিত থাকবে না। মেধা অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীকে যোগ্য স্থানে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে।’

এদিকে, রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভর্তি বঞ্চিত শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ শাখার কর্মকর্তাদের রুমে ভিড় জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে জিপিএ-৫ পেয়েও কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হননি। তারা ভর্তি হতে পারবে কি না, তা জানতে অভিভাবকদের নিয়ে বোর্ডে এসেছেন। অনেক অভিভাবক সন্তানকে কোনো কলেজে ভর্তি করতে না পেরে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতন্ডাও করতে দেখা গেছে।

ঢাকা বোর্ডে বাবাকে নিয়ে এসেছেন সাব্বির হোসেন। তিনি ঢাকা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে তিন দফায় ভর্তির জন্য আবেদন করেও কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হননি। কোথাও ভর্তি হতে পারবেন কি না, তা জানতে রোববার বাবাকে নিয়ে ঢাকা বোর্ডে এসেছেন।

সাব্বির বলেন, ‘আমি তিন দফায় বেশ কয়েকটি কলেজে অনলাইনে আবেদন করেছি, কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ পাইনি। ভালো রেজাল্ট থাকার পরও আমার ভাগ্যে কোথাও ভর্তির সুযোগ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বোর্ডের ওয়েবসাইটে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে চতুর্থ দফায় ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিলেও তা এখনও চালু করা হয়নি। কবে তা চালু করা হবে এবং আমি কোথাও ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে বোর্ডে এসেছি।’

মিরপুর থেকে মাকে নিয়ে এসেছেন শেখ সাদিক। সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন তিনি। দুই দফায় আবেদন করার পর তাকে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ধানমন্ডির বাসিন্দা হওয়ায় সেখানে ভর্তি হতে আগ্রহী নন। এ কারণে সেটি বাতিল করে নতুন করে অন্য কলেজে আবেদন করতে ঢাকা বোর্ডে এসেছেন।

সাদিক আরও বলেন, ‘আমার বন্ধুরা আমার চাইতে কম নম্বর পেয়েও ভালো কলেজে ভর্তি হয়েছে। অথচ আমি দুই দফায় আবেদন করে আমাকে বাসা থেকে অনেক দূরে একটি কলেজে মনোনীত করা হয়েছে। সেখানে আমি ভর্তি হব না। এর সমাধান করতে মাকে নিয়ে বোর্ডে এসেছি।’

তার মতো শতাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে অভিভাবকের সঙ্গে এসে ভিড় জমিয়েছেন। কেউ আবেদন করেও ভর্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, কেউ ভর্তি বাতিল করতে চান, কেউ নির্ধারিত সময়ে নিশ্চয়ন না করায় ভর্তি হতে পারছেন না- এমন নানা সমস্যা নিয়ে তারা ঢাকা বোর্ডে ছুটে এসেছেন। সবাই চোখে-মুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে কর্মকর্তাদের দরজায় দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে বোর্ড কর্মকর্তাদের আশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এখনও প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেও কলেজ মনোনীত না হওয়ায় ভর্তির থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। চতুর্থ ধাপে এসব শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে- আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমন আশ্বাস দিলেও সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির তিন ধাপের ভর্তির তালিকা প্রকাশের পর এ পর্যন্ত সাধারণ আট বোর্ডের অধীনে সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে তিন ধাপে মোট ১২ লাখ ২৮ হাজার ১৫ জনকে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়।