অনলাইনে প্রকাশ হবে চসিকের ৪৭ স্কুলের পরীক্ষার ফল

21
শিক্ষা সংবাদ,

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত ৪৭টি স্কুলের দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থীর প্রায় ৮০ হাজার খাতার ফল প্রথমবারের মতো অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও যাচাই-বাছাই শেষে ফল প্রস্তুত করা হয়েছে। চসিক কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পাঁচ প্রশিক্ষক সফটওয়্যারটি তৈরি করেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চসিক মেয়র আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফল বের করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। এর মধ্যে ছিল এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যজনের রোল নম্বর মিলে যাওয়া, রেজিস্ট্রেশন না করেও পরীক্ষা দেওয়া, খাতা মূল্যায়নের পর খাতার মুড়ির সঙ্গে মূল খাতার কোড মেলানোসহ নানা জটিলতা। কিন্তু এবার অনলাইনের মাধ্যমে ফল তৈরি করায় এ জটিলতা নিরসন হয়েছে।

এ বছর থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে স্কুলভিত্তিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরীক্ষা। চসিক কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আনিছ আহমদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের চার তরুণ প্রশিক্ষক আশরাফ রেজা, আলী উজ্জামান, নুর উদ্দিন ও হায়দার আলী এ সফটওয়্যারটি তৈরি করেন। চসিক কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আনিছ আহমদ বলেন, ‘চসিক পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের অনুরোধ ছিল, পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরগুলো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত এবং শতভাগ নিরাপত্তায় ফল প্রকাশ করার। পরে ৪৭টি স্কুলের জন্য পৃথক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। যে কোনো স্কুল-প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মূল্যে এই সুবিধা নিতে পারবে।’

সফটওয়্যার কাজের দলপ্রধান আশরাফ রেজা বলেন, ‘প্রথম অংশে প্রতিটি স্কুলের জন্য পৃথক প্যানেল তৈরি করা হয়। এরপর প্যানেল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তালিকা অনলাইনে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ৭ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া যায়। প্রতি বছর এই তালিকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকলেও এ বছর অনলাইন পদ্ধতিতে সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব হয়। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিনের পরীক্ষার উপস্থিতির তালিকাও স্কুলগুলো থেকে অনলাইনে নেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিনের বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার হাজিরা এবং উত্তরপত্রের জন্য পৃথক পৃথক কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কমিটির কাছে চলে আসে।’ তিনি বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে আমরা উত্তরপত্রের প্রাপ্ত নম্বরগুলো সংগ্রহের জন্য আরও একটি প্যানেল তৈরি করি। সর্বশেষ তৈরি করা হয় ফলাফল প্যানেল। এ প্যানেলটি কাজ করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধটিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার ফল পরীক্ষার্থীরা তাদের কম্পিউটার অথবা মোবাইল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দেখতে পাবে (www.examerp.com/schoolresult/result) এই ঠিকানায়।’ জানা যায়, এই সফটওয়্যারের রয়েছে প্রতিটি স্কুলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন লগইন প্যানেল, স্কুলের নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা প্যানেল, শিক্ষকদের জন্য লগইন প্যানেল, পরীক্ষার্থীদের প্রতিটি উত্তরপত্রের জন্য পৃথক গোপন নম্বর তৈরি, শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ভিত্তিক ফলাফল প্রদর্শনসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা। পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক (মাধ্যমিক) মো. আবুল হোসেন বলেন, পুরো পদ্ধতি অনলাইনে আনার পর আগের চেয়ে ভুল-ভ্রান্তি প্রায়ই কমেছে। কম সময়ে নির্ভুলভাবে দ্রুত গতিতে সম্পূর্ণ পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা সব শিক্ষক বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নিয়মিত এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছেন। এবার অতীতের চেয়ে কম সময়েই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে।